ইরানের সঙ্গে আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে বিশ্ব আজ পাকিস্তানে উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফার বৈঠক নিয়ে গভীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে। তবে বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত হবে কি না- তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল ইরান বলেছে, তারা আবারও আলোচনায় বসতে রাজি নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র অযৌক্তিক দাবিদাওয়া তুলেছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, চুক্তি না হলে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। ইরানও পাল্টা জবাব দিয়ে বলেছে, আলোচনা চললেও ইরান যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত। ইরান এও ঘোষণা দিয়েছে, অবরোধ না তুললে হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। সূত্র : রয়টার্স, আলজাজিরা, সিএনএন, আরব নিউজ।
সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌঅবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত প্রণালিটি পুরোপুরি চালু করা হবে না বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক টেলিভিশন ভাষণে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো আলোচনা’ চলছে। তবে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা না করতে তেহরানকে সতর্ক করেন তিনি। গতকাল ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, ‘যেকোনো মুহূর্তে’ আবার যুদ্ধ শুরু হতে পারে। কারণ তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না এবং বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত।’ তিনি আলোচনার বিষয়ে বলেন, মতপার্থক্যগুলো দূর না হলে এবং মৌলিক বিষয়গুলোর সমাধান না হলে চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব নয়। আমরা চূড়ান্ত আলোচনা থেকে অনেক দূরে। আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে, তবে এখনো অনেক ফাঁক রয়ে গেছে এবং কিছু মৌলিক বিষয় এখনো অমীমাংসিত।
ট্রাম্পের হুমকি : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘শান্তি চুক্তি না হলে ইরানকে প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’ নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প গতকাল এ হুমকি দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব ন্যায্য এবং যৌক্তিক একটি চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছি। আমি আশা করি তারা (ইরান) এটি গ্রহণ করবে। কারণ যদি তারা তা না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু গুঁড়িয়ে দেবে।’ ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালিতে গুলি চালিয়েছে, যা আমাদের যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন!’ ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান একটি ফরাসি জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের একটি মালবাহী জাহাজে গুলি চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের ঘোষণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ইরান সম্প্রতি প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা বেশ অদ্ভুত। ইসলামাবাদে আলোচনার প্রস্তুতি : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনাকে সামনে রেখে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বিভিন্ন প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আজকের এই আলোচনার জন্য গতকাল ইসলামাবাদের দুটি বড় হোটেল থেকে অতিথিদের সরে যেতে বলা হয়। এর মধ্যে আগেরবার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়া সেরেনা হোটেলও রয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা জারি করে শহরে ভারী যানবাহন ও গণপরিবহন বাস চলাচল সীমিত রাখতে বলেছে।
হরমুজ প্রণালির সবশেষ পরিস্থিতি : জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরজুড়ে বিশেষ করে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের কাছাকাছি অনেকগুলো জাহাজকে নোঙর করে থাকতে দেখা গেছে। গত শনিবার গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচল করেছিল, কিন্তু তেহরান প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শনিবার কয়েকটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। একই দিনে একটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছিল।