প্রায় ৫০ বছর ধরে ভারতের প্রতিটি নির্বাচনেই ভোট দিয়ে আসছেন ৭৩ বছর বয়সী নবিজান মণ্ডল। কিন্তু এবার হঠাৎ করেই ভোটার তালিকায় নিজের নাম খুঁজে পাচ্ছেন না। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের আগে ভারতের নির্বাচন কমিশন বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে। সেই প্রক্রিয়াতেই বাদ পড়েছেন নবিজান।
আশ্চর্যজনকভাবে তাঁর স্বামী, তিন ছেলেমেয়ে এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের নাম তালিকায় থাকলেও বাদ পড়েছে শুধু তাঁর নাম। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়– ভোটার কার্ডে তিনি ‘নবিজান’ নামে পরিচিত। অথচ আধার, রেশন কার্ডসহ অন্যান্য সরকারি নথিতে তাঁর নাম ‘নবিরুল’। এই সামান্য নামের অমিলই তাঁকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।
নবিজানের মতো পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, যা রাজ্যের মোট সাত কোটি ৬০ লাখ ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখকে ‘অনুপস্থিত’ বা ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ৩০ লাখকে ট্রাইব্যুনালে প্রমাণ না দেওয়া পর্যন্ত ভোট দেওয়ার অনুমতি নেই।
২০১১ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দুই কোটি ৫০ লাখ মুসলিম বাস করেন, যা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ। বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে মুসলিমদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি, বিশেষ করে যেসব জেলায় তাদের জনসংখ্যা বেশি। মুর্শিদাবাদে প্রায় চার লাখ ৬০ হাজার, উত্তর চব্বিশ পরগনায় তিন লাখ ৩০ হাজার এবং মালদায় দুই লাখ ৪০ হাজার ভোটার বাদ পড়েছেন, যেখানে মুসলিম ভোটারদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
লোকসভায় মুসলিম নারীদের কটাক্ষ
ভারতের লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যে তীক্ষ্ণ বাগ্যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। ১৬-১৮ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত বাজেট অধিবেশনে কেন্দ্র সরকার লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল উত্থাপন করলে এই বিতর্ক শুরু হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে অখিলেশ যাদব প্রশ্ন তোলেন, কেন সরকার এত তাড়াহুড়া করে নারী সংরক্ষণ বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে, যখন এখনও জাতীয় জনশুমারি সম্পন্ন হয়নি।
অখিলেশ প্রশ্ন তোলেন, ‘মুসলিম জনগোষ্ঠী কি সংরক্ষণের ৫০ শতাংশ সীমার বাইরে পড়ে?’ অমিত শাহ কটাক্ষ করে বলেন, ‘আমরা সমাজবাদী পার্টিকে থামাচ্ছি না। তারা চাইলে সব টিকিট মুসলিম নারীদের দিতে পারে।’
‘বাংলায় কাউকে বাবরি মসজিদ বানাতে দেব না’
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদের মতো কোনো কাঠামো তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন অমিত শাহ। গত বুধবার জলপাইগুড়িতে এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা বাংলায় কাউকে বাবরি মসজিদ বানাতে দেব না।’ এরপরই আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাবরি মসজিদ নির্মাণ আটকাতে পারবে না কেউ। মসজিদটি দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা। খবর আলজাজিরা ও এনডিটিভির।