Image description

রাজশাহী অঞ্চলে শহরের তুলনায় গ্রামে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। শহরে এক থেকে দেড় ঘণ্টা হলেও গ্রামে ৯ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এ অবস্থায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুতের যাওয়া-আসায় ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে মানুষ।

ভোগান্তির কথা জানিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলার লালবাগ এলাকার মশিউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘২৪ ঘণ্টায় কতবার বিদ্যুৎ যায়, তার হিসাব নেই। একবার বিদ্যুৎ গেলে এক থেকে দুই ঘণ্টা পরে আসে। গরমের কারণে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। এতে দিনের বেলায় ঠিকমতো কাজ করতে পারি না।’

দুর্গাপুর উপজেলার অটোরিকশাচালক আরমান আলী বলেন, ‘রাতে ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ঠিকমতো চার্জ দিতে পারি না। রাতে চার্জ দিলে দিনের বেলায় অটোরিকশা নিয়ে ভাড়া মারি। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো চার্জ হয় না। সংসারের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

 

একই কথা বলেছেন নওগাঁর রানীনগর উপজেলার কসবাপাড়া গ্রামের বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকূপের মালিক আনিছুর খান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার গভীর নলকূপের আওতায় প্রায় ২৯০ বিঘা বোরো জমি রয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে চরম বেকায়দায় পড়েছি।’

নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার আলী হৃদয় বলেন, ‘ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে কাজও ঠিকমতো করা যচ্ছে না।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে বেড়েছে লোডশেডিং। তবে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে কয়েকগুণ বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এ অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়ছেন জেলা শহরসহ পাঁচ উপজেলার বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা নাজেহাল হয়ে পড়েছে।

নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কৃষক মাসুদ রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন বোরো ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়। জমিতে নিয়মিত পানি না দিলে ফলন কমে যাবে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালানো যাচ্ছে না। কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ আসে আর যায়, এভাবে চাষাবাদ চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্লাব সুপার মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান ঠিকমতো চালানো যায় না। দিনে গরমের কারণে ক্রেতা কম আসে, আবার বিদ্যুৎ না থাকলে তারা বেশিক্ষণ দোকানে থাকতে চায় না।’

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই স্থান ও সময় ভেদে লোডশেডিং দিয়ে বিদ্যুৎ সরবারহ করতে হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলিউল আজিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে বিদ্যুতের চাহিদা ৩১ থেকে ৩২ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ২৫ থেকে ২৬ মেগাওয়াট। সে হিসেবে ঘাটতি রয়েছে ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। এ কারণে এলাকাভেদে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘এপ্রিলের শুরু থেকেই গরম বেড়েছে। এ কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে বোরো চাষের জন্য বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে চাহিদার চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে। তাই স্থান ও সময় ভেদে বিভিন্ন সময় লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। তবে আগামীতে লোডশেডিং বাড়বে কিনা তা চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করছে।’

নেসকোর প্রধান প্রকৌশলী জিয়াউল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিভিন্ন সময় বিদ্যুতের চাহিদা ভিন্ন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সারাদিনের চাহিদা ছিল ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু পাওয়া গেছে ৪৬০ মেগাওয়াটের মতো। এতে ঘাটতি ছিল ৪০ মেগাওয়াট। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় আজকে (বৃহস্পতিবার) কম লোডশেডিং হয়েছে। এদিন দুপুর পর্যন্ত হলেও এরপর স্বাভাবিক হয়েছে।’