Image description

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সব বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়ার ওপর নৌ-অবরোধ আরোপের নির্দেশ দেন। এ ঘটনার পর ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের বন্দরগুলো ‘নিরাপদ থাকবে না’। আপনারা (যুক্তরাষ্ট্র) যুদ্ধ চাইলে আমরাও লড়াই করব।

 

সোমবার (১৩ এপ্রিল) টিআরটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে ইরানের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। অসামরিক জাহাজ চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত থাকলেও সামরিক জাহাজগুলোকে ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে বলে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র সোমবার থেকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর এই হুমকি এলো। পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। সাত সপ্তাহে পদার্পণ করা এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিশ্ববাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।

 

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ (যিনি শান্তি আলোচনায় ইরানি পক্ষের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন)সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা লড়াই করলে আমরাও লড়াই করব। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চাইলে আমরাও লড়াই করব।

 

 

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে , পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের বন্দরগুলো ‘নিরাপদ থাকবে না’। পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের বন্দরগুলোর নিরাপত্তা ‘হয় সবার জন্য থাকবে, নয়তো কারও জন্যই থাকবে না।’

 

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপকে ‘অবৈধ’ এবং ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর হুমকির মুখে নিজেদের আইনি অধিকার রক্ষা করা তাদের জাতীয় কর্তব্য।