যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৮ এপ্রিল) এক ব্রিফিংয়ে এ দাবি জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট। খবর বিবিসির।
এ সময় গত রাতে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে আলাপ হয়েছে বলে জানান লেভিট। নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতির এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছেন এবং আলোচনার একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে থাকবেন বলে জানিয়ছেন।
লেবানন এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে লেভিট বলেন, তারা (লেবানন) এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত না। তবে তাদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
যদিও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে হিজবুল্লাহ অন্তর্ভুক্ত থাকবে না বলে আগেই জানিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তিনি হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন।
এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনে লেবাননে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৬৫ জন। যদিও যুদ্ধবিরতি মেনে ইসরায়েলে হামলা বন্ধ করেছিল লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
লেবাননের জরুরি পরিষেবা সংস্থা (সিভিল ডিফেন্স) জানায়, হামলায় শুধু রাজধানী বৈরুতেই নিহত হয়েছেন ৯২ জন। আহত হয়েছেন ৭৪২ জন। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে নিহত হয়েছেন ৬১ জন। আহত হয়েছেন ২০০ জন।
লেবাননে ব্যাপক ইসরায়েলি হামলা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের নেতানিয়াহু জানান, আমরা হিজবুল্লাহর এমন সব অবস্থানে আঘাত হেনেছি, যেগুলোকে তারা নিরাপদ বলে মনে করত।
এদিকে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফারস বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে লেবাননে হামলা চালানোর প্রতিবাদে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। এর ফলে ওই রুটে ট্যাংকার চলাচল আবারও বন্ধ হয়ে গেছে।
সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইরানি নৌবাহিনীর কাছ থেকে বেশ কয়েকটি জাহাজ বার্তা পেয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সমুদ্রে প্রবেশের চেষ্টাকারী যেকোনো জাহাজকে ধ্বংস করা হবে।
ইরান এই কঠোর অবস্থানে যাওয়ার আগে মাত্র দুটি জাহাজকে প্রণালিটি অতিক্রম করার অনুমতি দিয়েছিল।