Image description

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে আবারও পূর্ব উপকূলে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে চালানো এই পরীক্ষা গত দুই দিনের মধ্যে পিয়ংইয়ংয়ের দ্বিতীয় দফা উসকানি হিসেবে দেখছে সিউল। এই ঘটনার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি ভবনে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সিউলের পক্ষ থেকে শান্তি আলোচনার যেটুকু আভাস পাওয়া যাচ্ছিল, পিয়ংইয়ংয়ের এই সামরিক শক্তি প্রদর্শন সেই আশার গুড়ে বালি দিয়েছে।

বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে তাদের ‘প্রধান শত্রু’ হিসেবেই বিবেচনা করছে এবং নিজেদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াতে তারা বিন্দুমাত্র পিছু হটবে না।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের এ পরীক্ষাকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন ও উসকানি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে সিউল। দক্ষিণ কোরিয়া অবিলম্বে এ ধরনের বিপজ্জনক পরীক্ষা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের এক বক্তব্যের পর মনে করা হচ্ছিল, দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে।

কিন্তু উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জাং কুম চল সেই আশা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়া যদি মনে করে পিয়ংইয়ং তাদের শত্রু ছাড়া অন্য কিছু ভাববে, তবে তারা ‘অলীক কল্পনা’ করছে। উত্তর কোরিয়ার মতে, দক্ষিণ কোরিয়া তাদের প্রধান শত্রু এবং এই পরিচয় বদলানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি এটিও বুঝিয়ে দিতে চাইছে যে তারা আলোচনার চেয়ে সংঘাতের পথেই অটল।

শান্তি আলোচনার কোনো সুযোগ তারা আপাতত দিতে চায় না। সূত্র : রয়টার্স

শীর্ষনিউজ