Image description

ওসির চেয়ারে বসে আছেন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ। তার পাশে থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা বসে আছেন। সংসদ সদস্যের সামনে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা। তাদেরকে নির্দেশনা দিচ্ছেন সংসদ সদস্য।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার (৫ এপ্রিল) ময়মনসিংহ পুলিশ লাইনে প্যারেডে অংশ নিতে সকাল সোয়া ৭টায় ফুলপুর থেকে ময়মনসিংহে যান ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ থানায় উপস্থিত হন এমপি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ। তখন থানায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে জানান, ওসি থানায় নেই। এরপরও এমপি ওসির কক্ষে প্রবেশ করেন। থানায় ওসির চেয়ারের পাশে অন্য চেয়ার খালি থাকা সত্ত্বেও তিনি ওসির চেয়ারে বসেন এবং উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ মতবিনিময় করে চলে যান। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ওসির চেয়ারে বসে এমপি বললেন ‘এতে চেয়ার পচে যায়নি’

 

 

এ বিষয়ে ফুলপুর থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান রাশেদ বলেন, ‌‘ওইদিন পুলিশ লাইনে আমার মাস্টার প্যারেড ছিল। সকাল সোয়া ৭টার দিকে পুলিশ লাইনের উদ্দেশে রওয়ানা হন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংসদ সদস্য থানায় প্রবেশ করেন। তাকে পুলিশ সদস্যরা বলেন, আমি (থানায়) নেই। তবুও তিনি আমার কক্ষে যান। উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা আমার চেয়ারের পাশে থাকা চেয়ারে সংসদ সদস্যকে বসতে দেন। এসময় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আসা নেতাকর্মীরা আমার চেয়ারেই তাকে বসতে বলেন। এসময় তিনি আমার চেয়ারেই বসেন।’

সংসদ সদস্য ওই চেয়ারে বসতে পারেন কি-না—জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘কখনোই বসতে পারেন না। ওইদিন সংসদ সদস্যের থানায় আসার কোনো পূর্বসূচি ছিল না। আমাকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জানার জন্য ওসিকে না বলেই হঠাৎ থানায় গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখি ওসি থানায় নেই। আমি চলে আসতে চাইলে সেখানে থাকা কর্মকর্তারা জোর করেই আমাকে ওসির চেয়ারে বসিয়েছেন। ওসির চেয়ারে বসেছি বলে বলে অন্যায় হয়নি, চেয়ার পচে যায়নি।’