Image description

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকে ভণ্ডামি বলে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির প্রভাবশালী রাজনীতিক ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। এর মাধ্যমে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

সোমবার রাতে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে দলের পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা ফজলুর রহমান এসব কথা বলেন। এ সময় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ১২ এপ্রিল পাকিস্তানজুড়ে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

 

পাকিস্তানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোলাম’ উল্লেখ করে ফজলুর রহমান বলেন, ফিলিস্তিনে গণহত্যার পর এখন ইসরাইলের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আগ্রাসন চালাচ্ছে। লেবাননেও তারা নির্বিচারে হামলা করছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা মুসলিম বিশ্বে এ অপশক্তি অশান্তি সৃষ্টি করছে অথচ আমাদের সরকার নির্লজ্জভাবে তাদের তাবেদারি করে যাচ্ছে। যুদ্ধবিরতির আলোচনার নামে তারা একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করছে, অন্যদিকে এসব অপতৎপরতার মাধ্যমে দেশের সমস্যার বিষয়ে জনগণকে বোকা বানিয়ে রেখেছে।

 

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের পতাকাবাহী ১০টি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি অনুমতি দেওয়ার দাবি করেছে সরকার। তাহলে দেশে তেলের দাম বাড়ানোর কি দরকার ছিল? নাকি পাকিস্তানকে ব্যবহার করে এসব তেল অন্য দেশে নেওয়া হয়েছে। আদৌ এসব জাহাজ করাচি এসেছে কি না, যদি আসে তাহলে এগুলো খালাস হয়েছে কি না সব জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে।

 

সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সমালোচনা করে প্রভাবশালী এ রাজনীতিক বলেন, হরমুজ প্রণালী এখন পুলসিরাতের মতো হয়ে গেছে। একজন হাফেজ যেমন ১০ জনকে পুলসিরাত পার করাতে পারবে তেমনী আমাদের সেনাপ্রধান ১০টি জাহাজ পার করে এনেছেন। এগুলো জাতির সঙ্গে তামাশা। কোনো সভ্য সমাজে এগুলো করতে দেওয়া যায় না।

 

ফজলুর রহমান বলেন, যেখানে ইসরাইলের পক্ষপাতিত্বের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন নিজ দেশেই একা হয়ে পড়েছে সেখানে আমাদের সরকার নির্লজ্জভাবে তাদের খুশি করতে এখনও তাবেদারি করে যাচ্ছে। এ সরকারের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো ক্ষমতাই নেই।

 

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেশী দুই দেশ আফগানিস্তান ও ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের ‘ভুলনীতি’র ও সমালোচনা করেন তিনি। সূত্র: এক্সপ্রেস নিউজ উর্দু



শীর্ষনিউজ