Image description

জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ভোলার জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদা বেগম। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৌরভ রায়ের (মিঠু) আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর তিনি জেল থেকে মুক্তি পান।

 

মুক্তি পেয়ে বিবি সাওদা বলেন, আমরা চাই সামনের দিনগুলোতে আমাদের কথা বলার সুযোগটা দেওয়া হোক। আমরা শুধু বলব, আমাদের বলার সুযোগটা দেন অন্তত। আমরা যেন আমদের মত তুলে ধরতে পারি, আমরা এটাই চাই।

 

সবসময় সমসাময়িক সমস্যা নিয়ে লেখালেখি করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি তো সমসাময়িক সমস্যাগুলো নিয়েই লেখালেখি করেছি। বিশেষ করে হামের সমস্যা, তেলের সংকট নিয়ে। শুধু এখন নয়, ইউনূস সরকার, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ও ফেসবুকে লেখালেখি করেছি।

 

দেশকে ভালোবেসে এসব লেখালেখি করেন দাবি করে বিবি সাওদা বলেন, কিন্তু এ জন্য যদি আমাদের গলা চেপে ধরা হয়, কথা বলতে না দেওয়া হয়; তাহলে কি আমরা আবার ফ্যাসিজমে ফিরে যাব? আমরা তো ফ্যাসিজম চাই না বলেই হাসিনাকে তাড়িয়েছি সবাই মিলে। আমরা জুলাইকে ধারণ করি, আমরা চাই না আবার ফ্যাসিজমে ফিরে যাই। আমি চাই না আমাদের মতো আর কাউকে গলা চেপে ধরা হোক।

 

সরকারের কাছে সবার কথা বলার অধিকার চেয়ে তিনি বলেন, সরকারের কাছে এটাই আবেদন, আমাদের অন্তত কথা বলতে দেওয়া হোক, যাতে সরকার সঠিক পথে থাকে। সরকার যদি আমাদের কথা না শোনে, শুধু দলের লোকজনের কথাই শোনে তাহলে সরকার সঠিক পথে থাকতে পারবে না। তাদের বিরোধী দলের কথাও শুনতে হবে, জনগণের কথাও শুনতে হবে। তারা তো জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই সরকারে গেছে, সেই সরকার যদি জনগণের না হয় তাহলে সেই সরকার দিয়ে কী করব?

 

জেলে কাটানো সময়ের বর্ণনা দিয়ে জামায়াতের এই নারী কর্মী বলেন, আজকে সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে অসুস্থ বাচ্চা রেখে দুটি রাত জেলখানায় কাটাতে হয়েছে। অবর্ণনীয় যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। এই কষ্ট সহ্য করার জন্য তো আমরা সরকার নির্বাচিত করিনি।

 

কথা বলার অধিকার না থাকলে জুলাই অভ্যুত্থানে রক্ত দিয়ে কী লাভ হলো সেই প্রশ্নও তুলেছেন বিবি সাওদা। তিনি বলেন, আমি দেশকে ভালোবেসে এটা করেছি, এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। আমি তো সরকারকে বলিনি যে আমার কথা শুনতেই হবে। এটার জন্য যদি জনে জনে জেলে আটকে রাখে, তাহলে তো কেউ কতা বলবে না, সবাই চুপ করে বোবা হয়ে থাকবে। তাহলে আমরা কি আবার ১৭ বছর জেলের মধ্যে থাকব। তাহলে এতগুলো মানুষ যে জীবন দিলো, তা কি বৃথা যাবে, এতগুলো মানুষ অন্ধ হলো, পঙ্গু হলো। এত ত্যাগের পরও যদি চুপ করেই থাকতে হয়, তাহলে কী লাভ হলো। এই বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতেই তো আমরা এত রক্ত দিয়েছি।

 

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে ভোলা পৌরসভার নিজ বাসা থেকে বিবি সওদা বেগমকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরদিন তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।