Image description

পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছিল যেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফকে লক্ষ্য করে হামলা না করা হয়। এরপরই ইসরায়েল হত্যার তালিকা বা ‘হিট লিস্ট’ থেকে সাময়িকভাবে তাদের নাম বাদ দেয়। আলোচনার বিষয়টি জানেন এমন এক পাকিস্তানি সূত্র বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে এ তথ্য দিয়েছে।

সূত্রটি জানায়, ইসরায়েলের কাছে ওই দুই নেতার অবস্থানের তথ্য ছিল এবং তারা হামলার পরিকল্পনা করেছিল।

তখন পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে জানায়, যদি এই দুই নেতাকেও হত্যা করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আলোচনার জন্য আর কেউ থাকবে না। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সরে যেতে বলে। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

 

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম জানায়, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার সুযোগ রাখতেই ইরানের এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে ইসরায়েলের লক্ষ্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, চার থেকে পাঁচ দিনের জন্য তাদের নাম তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। তবে এতে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

 

ইরান যুদ্ধ শেষ করতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। ইসলামাবাদ দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছে।

শান্তি আলোচনা হলে পাকিস্তানকে সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

 

এদিকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঠানো ১৫ দফা প্রস্তাব ইরান পর্যালোচনা করছে। এই প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। ইসরায়েলি সূত্রের মতে, এতে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে ফেলা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।

তবে আরাগচি বলেছেন, প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা হলেও সংঘাত নিরসনের জন্য আলোচনায় বসার কোনো ইচ্ছা তেহরানের নেই।