মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের অবস্থান ও কৌশল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে ভারতের নীতি, কৌশল ও শক্তি দেখে বিশ্বের অনেক দেশই বিস্মিত হচ্ছে। একইসঙ্গে ভারত নিজের স্বার্থ, শান্তি ও সংলাপের পথেই এগোচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ভারতের স্বার্থ ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কার পক্ষে— এই প্রশ্নের উত্তর হলো, আমরা ভারতের পক্ষে।’
সোমবার টিভি৯ নেটওয়ার্ক সামিটে দেয়া বক্তব্যে মোদি বলেন, কঠিন বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত উন্নয়ন, অগ্রগতি ও আস্থার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। গত ২৩ দিনে ভারত সম্পর্ক গড়ে তোলার সক্ষমতা, সিদ্ধান্ত নেয়ার দক্ষতা এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা দেখিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিশ্ব যখন বিভিন্ন শক্তির ব্লকে বিভক্ত, তখন ভারত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিস্তৃত ও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে বলে দাবি করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘অনেকে জানতে চান, আমরা কার পক্ষে? আমার উত্তর— আমরা ভারতের পক্ষে, ভারতের স্বার্থের পক্ষে এবং শান্তি ও সংলাপের পক্ষে।’
একই বক্তব্যে তিনি বিরোধী কংগ্রেস দলের সমালোচনা করেন। মোদি বলেন, কংগ্রেস সরকার দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখতেই বেশি মনোযোগী ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ইউপিএ সরকারের সময় জারি করা ‘অয়েল বন্ড’-এর কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর বড় আর্থিক বোঝা চাপানো হয়েছে।
তার দাবি, ২০০৪ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে জ্বালানির দাম সংকটের মধ্যে কংগ্রেস সরকার প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি রুপির অয়েল বন্ড ইস্যু করে। পরে সুদসহ এই দায় বেড়ে ৩ লাখ কোটি রুপির বেশি হয়েছে। গত কয়েক বছরে তার সরকার সেই দায় পরিশোধে কাজ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মোদি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির পর থেকে একের পর এক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে ভারত। তবে দেশের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারির পর বিশ্বে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেও ভারত স্থিতিশীলতা বজায় রেখে এগিয়ে চলেছে। অনেক দেশ ভারতের নীতি ও কৌশল এবং শক্তি দেখে বিস্মিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মোদি বলেন, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার মধ্যেও ভারত বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদাহরণ তৈরি করেছে। জ্বালানি, সার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে নাগরিকদের ওপর চাপ কমাতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘গালফ অঞ্চল থেকে শুরু করে গ্লোবাল ওয়েস্ট, গ্লোবাল সাউথ কিংবা প্রতিবেশী দেশ— সব জায়গাতেই ভারত একটি বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার হয়ে উঠেছে।’