যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে এসেছে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক, যারা দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। জবাবে ইরানও ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলার হুমকি দিলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই সংকট বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ওঠানামা দেখা গেছে এবং তেলের দামেও প্রভাব পড়েছে।
সোমবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’ তিনি জানান, চলমান আলোচনার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পাঁচ দিনের জন্য সামরিক হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি। তাদের মতে, কিছু আঞ্চলিক দেশ উত্তেজনা কমাতে চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে তেহরান অভিযোগ করেছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে এবং সামরিক প্রস্তুতির সময় বাড়াতে ওয়াশিংটন এই অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক সক্রিয়ভাবে দুই দেশের মধ্যে বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। এসব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পৃথকভাবে হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সূত্রটির দাবি, মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হচ্ছে এবং আলোচনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুদ্ধের অবসান ও অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধান।
রোববার মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিনি জোর দিয়ে বলেছেন—সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো এবং এর প্রভাব সীমিত রাখা এখন সবচেয়ে জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি আলোচনা না হলেও পরোক্ষ কূটনীতির এই উদ্যোগ পরিস্থিতি শান্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ তৈরি করতে পারে।