ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ ঘনিয় আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এ বিষয়ে এই সপ্তাহে যুক্তরাজ্য সরকারের জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আহ্বান করেছেন তিনি।
এছাড়া চলমান যুদ্ধ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পথে। এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে। এই চরম সংকটময় মুহূর্তে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে সোমবার (২৩) জরুরি ‘কোবরা’ বৈঠকও ডেকেছেন স্টারমার। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন তিনি।
রোববার (২২ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের রক্ষা করার যে প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী দিয়েছিলেন, এটি তারই অংশ। সোমবারের এই বৈঠকে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাফ জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি কোনো শর্ত ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে।
সংবাদমাধ্যম মিররের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবারও (১৯ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী একটি কোবরা বৈঠক করেছিলেন, যেখানে ইরান যুদ্ধের অভ্যন্তরীণ প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এর আগে একজন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছিলেন যে, মধ্যপ্রাচ্য সংকট চলতে থাকলে তেলের দাম বৃদ্ধি ‘অনিবার্য’ হতে পারে।
ব্রিটিশ গ্যাসের মূল প্রতিষ্ঠান ‘সেন্ট্রিকার’ সিইও ক্রিস ও’শেয়া রোববার জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ২০ শতাংশ কমে গেছে। বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেলের প্রয়োজন হয়। হরমুজ প্রণালির সংকটে আমরা এর ২০ শতাংশ হারিয়েছি।