ইসরায়েল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালানোর পর বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে তাদের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানি হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে ইরান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে রাস লাফানে অবস্থিত কাতারের প্রধান গ্যাস স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার পর ইরানকে কড়া বার্তা দিয়েছে সৌদি। সৌদি আরব বলেছে, ‘ইরানের প্রতি যে সামান্য আস্থা অবশিষ্ট ছিল, তা পুরোপুরি ভেঙে গেছে।
এদিকে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের ‘সৌদি আরামকো’র সামরেফ তেল শোধনাগারে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।
অন্যদিকে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতের একটি তেল শোধনাগারে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
কুয়েত নিউজ এজেন্সি (কেএনএ) কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির কয়েকটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানি স্থাপনায় আবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানের এ হামলায় স্থাপনাগুলোতে ‘বড় ধরনের আগুন’ লাগে। সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার এনার্জি।
হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার ভোরে ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এর পরেই ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে। হামলার পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাঁচটি প্রধান তেল স্থাপনার কাছের এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।