পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে গত রাতে দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষামন্ত্রণালয়। ছুটির খবর আগে থেকে না জানায় আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে ভিড় করতে দেখা যায়। পরে স্কুল গেটে নোটিশ দেখে বা কর্তৃপক্ষের মুখে ছুটির খবর শুনে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান। এতে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা চরম ভোগান্তির কথাও জানান।
বৃহস্পতিবার সকালে মগবাজার, মতিঝিল, মালিবাগসহ রাজধানীর বেশকয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানকে নিয়ে স্কুলে এসে বন্ধের সংবাদ শুনে আবারও বাড়ি ফিরছেন। শিক্ষার্থীরা ভীড় জমিয়ে বিদ্যালয়ে এসেও হঠাৎ ছুটি শুনে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
এই হঠাৎ সিদ্ধান্তে রাজধানীর বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্তান নিয়ে আসা একজন অভিভাবক বলেন, ‘সকালে রোজা থেকে অনেক কষ্ট করে জ্যাম ঠেলে স্কুলে এসে দেখি গেট বন্ধ। রাতে যে ছুটি দিয়েছে সেটা জানতাম না। অন্তত একদিন আগে জানালে এই ভোগান্তি হতো না।’
আরেক অভিভাবক বলেন, ‘রোজা রেখে বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে আসা অনেক কষ্টের। রাতে হঠাৎ ছুটি ঘোষণা করায় আমাদের যাতায়াত ভাড়া এবং সময় দুটোই নষ্ট হলো।’
এর আগে, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশোধিত ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকা অনুযায়ী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সব ধরনের বিদ্যালয়ে রমজানের ছুটি শুরু হবে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলবে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত।
তবে ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার হওয়ায় এবং পরবর্তী দুই দিন (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীরা কার্যত ২৮ মার্চ পর্যন্ত ছুটি ভোগ করবেন।
তারও আগে প্রকাশিত ছুটির তালিকা ও বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, মাদ্রাসা ও কলেজে পুরো রমজান মাস ছুটি থাকার কথা জানানো হয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে ছুটি শুরু হয়েছে এবং আগামী ২৯ মার্চ থেকে ক্লাস কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।