Image description

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান বিশ্বাস সুন্দরবন এলাকায় অনুষদের কর্মশালায় যোগ দিতে গিয়ে ইন্তেকাল করেছেন। তার প্রয়াণে বিভাগটির চেয়ারম্যান পদ শূণ্য হওয়ার পর এ পদে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক প্রক্টর ও আওয়ামী আমলের শিক্ষার্থীর নিপীড়নে অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী। তার এ নিয়োগে ফুঁসে উঠেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ডাকসুর নেতারা। এ প্রেক্ষিতে আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে পূর্বের চেয়ারম্যানের বিয়োগে তার নিয়োগ হয়েছে। যেহেতু তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের শাস্তির রায় হয়নি, সেহেতু বিভাগ কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রাখে না, এমনটাই বলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীদের দাবি, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে এ শিক্ষকের অবস্থান স্পষ্টভাবে শিক্ষার্থী ও জনতার বিরুদ্ধে ছিল এবং প্রক্টর থাকাকালে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নে ভূমিকা ছিল। আর তিনি জুলাইবিরোধী বা গণহত্যার সহযোগী হিসেবে শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি মামলার আসামিও। তার শাস্তির বদলে চেয়ারম্যানে আসীন করার সুযোগ দিয়ে পুরষ্কৃত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচিত সদস্য আনাস ইবনে মুনীর ফেসবুকে পোস্ট করে লেখেন, শিক্ষার্থী নির্যাতক, জুলাই গনহত্যার আসামী গোলাম রব্বানীকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। এই রব্বানী অসংখ্য শিক্ষার্থীদের কান্নার কারণ। অসংখ্য শিক্ষার্থীর আর্তনাদের সাথে জড়িয়ে আছে তার নাম। জুলাই গনহত্যার আসামি এই রব্বানীকে কারা পুনর্বাসনে সাহায্য করলো সেই খতিয়ানও আমরা বের করবো।

ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ ফেসবুকে লেখেন, জুলাই গণহত্যার মামলার আসামি, হাজারো শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ধ্বংসকারী ডাকাত খ্যাত গোলাম রব্বানীকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বারবার স্মারকলিপি দিয়ে, ঘেরাও করে দৃষ্টি আকর্ষণ করা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরিবর্তে তাদেরকে পুরস্কৃত করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তিনি আরও লেখেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি অনতিবিলম্বে এই রব্বানীসহ ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে উদ্ভুত যেকোনো পরিস্থিতির দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।

ডাকসুর আরেক সদস্য মোহাম্মদ শাহীন ফেসবুকে লেখেন, খুনি হাসিনার আমলের প্রক্টর, যার হাতে লেগে আছে জুলাইয়ের রক্তের দাগ, তিনি এবার পরিপূর্ণ সম্মান এবং ভাবগাম্ভীর্যের সহিত ডিপার্টমেন্ট চেয়ারম্যানের আসন অলঙ্কৃত করেছেন! এই গোলাম রব্বানী প্রক্টর থাকাকালীন হলে ভয়াবহরকম নির্যাতনের শিকার হয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এই গোলাম রব্বানী ০৩ রা আগস্টেও খুনি হাসিনা, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়েছিল। ভাবতে লজ্জা হয়, জুলাই পরবর্তী সময়ে এসেও আমার ভাইদের রক্তাক্ত কারী, খুনি হাসিনার সহযোগী ডিপার্টমেন্ট চেয়ারম্যান হয় এবং এই ফ্যাসিস্টের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় জড়িত হয় জুলাই পূর্ববর্তী সময়ের মজলুম কিছু শিক্ষকেরা।

কে বা কারা এই খুনিদের পুনর্বাসনের প্রকল্প হাতে নিয়েছেন, এসকল তথ্য আমাদের কাছে আছে। অবিলম্বে খুনি হাসিনার সহযোগী এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা শক্ত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো। মনে রাখবেন, সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে, আমরা আঙ্গুলটা বাঁকাতেও জানি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, চেয়ারম্যান নিয়োগের অথরিটি হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, অনুষদ ডিন এখানে প্রাসঙ্গিক নয়। আর মূলকথা হচ্ছে, কোনো বাই চয়েজ সিস্টেমের ভিত্তিতে নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তিনি বছরের জন্য চেয়ারম্যান নিয়োগ হয় মূলত সিনিয়রিটির ভিত্তিতে। এটা একটি অটোমেটিক সিস্টেম। এ প্রেক্ষিতেই সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আতাউর রহমান বেঁচে থাকাকালে ছুটিতে থাকলে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে রুটিন দায়িত্ব পালন করতেন অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। কারণ, আতাউর রহমানের পরে তার ক্রম। এরপর অধ্যাপক আব্দুল বাছিরের।

তিনি আরও বলেন, নিয়ম মেনেই বিশ্ববিদ্যালয় হয়তো উনাকে নিয়োগ দিয়েছে। যেহেতু উনি এখনো শাস্তিপ্রাপ্ত নন, সেহেতু বিভাগ তো তার বিরুদ্ধে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে না।