Image description

২০২১-২০২২ থেকে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করে এবং পরীক্ষা শেষে নির্ধারিত সময়ে ফলাফল প্রকাশেরসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করে এবং সময়োপযোগী ও আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা কলেজ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী সিদরাতুল আজাদ তানহা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বতন্ত্র, আধুনিক ও মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। প্রশাসনিক জটিলতা, সেশনজট, ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা, শিক্ষক সংকট ও একাডেমিক অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা বারবার রাজপথে নেমেছেন। হাজারো শিক্ষার্থীর সাহস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে স্বাগত জানিয়ে সিদরাতুল আজাদ তানহা বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট নিরসন ও একাডেমিক সংকট মোকাবিলায় অধ্যাপক লুৎফর রহমান স্যারের অভিজ্ঞতাকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। 

সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান ও বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে। দীর্ঘদিন আমরা আন্দোলন করে এখন একটি স্বতন্ত্র প্রশাসন পেয়েছি। তাই আমাদের প্রত্যাশা-প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করবে এবং পুরোনো ব্যবস্থাকে কেবল বহাল রাখার পরিবর্তে বিদ্যমান সংকট নিরসনে কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করবে।  

শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দ্রুততম সময়ে শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ, সেশন ফি ও পরীক্ষার ফরম পূরণের ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানো, দ্রুত একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট গঠন করে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করা এবং সময়োপযোগী ও আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন।

এ ছাড়া প্রতিটি ক্যাম্পাসে মানসম্মত শ্রেণিকক্ষ, পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশ, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ও গবেষণার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্থায়ী প্রশাসনিক ভবন ও ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) নির্মাণ, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি ক্যাম্পাসে আবাসিক হল নির্মাণ এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহন বরাদ্দের দাবি রয়েছে।