জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত সদস্য হিসেবে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে কয়েকজন শিক্ষকের নাম। তাদের মধ্যে সর্বাগ্রে আলোচনায় রয়েছেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ এই অধ্যাপক বর্তমানে জাবির শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত সিনেট সদস্য হিসেবে অবদান রেখে চলেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ, কলামিস্ট ও সাহসী কলামলেখক, টকশো বক্তা। চার দশকের ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে তার ভূমিকা অনন্য।
১৯৮৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার হাত থেকে ফুল নিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সূচনা করেন এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নির্যাতন সহ্য করেন। তিনি ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ মেয়াদে জাকসু কর্তৃক নির্বাচিত সিনেট সদস্য ছিলেন। ২০০৭ সালে জাবিতে ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম’ গঠনে তিনি মুখ্য ভূমিকা রাখেন এবং বিগত ১৭ বছর তৎকালীন দুর্নীতি ও নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক-শিক্ষার্থী আন্দোলনে অন্যতম সংগঠক ছিলেন।
২০২৪-এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন এবং ৫ই আগস্টের সাভার অঞ্চলের লংমার্চে রাজপথে নেতৃত্ব দেন। এই ভূমিকার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাতীয় পর্যায়ে সংবর্ধিত হন।
এছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টে ফেনীর বন্যায় শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বিতর্কহীন উপায়ে বিশাল ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে সুশীল সমাজের প্রশংসা কুড়ান। তিনি জাবি শিক্ষক ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ অ্যালামনাইয়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং নরওয়েস্থ ‘বাংলাদেশ কালচার অর্গানাইজেশন’-এর সাবেক সভাপতি।
বর্তমানে তিনি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ আসনের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম মজনুর নির্বাচনী প্রচারণা পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে আলোচনায় রয়েছেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে প্রথম সারিতে দেখা যায়নি, কিংবা বিএনপির পক্ষে কোনো টকশোতেও তিনি অংশ নেননি। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের আগে ক্যাম্পাসের মূলধারার রাজনীতিতেও তার খুব একটা উপস্থিতি ছিল না।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় গণমাধ্যম ও টেলিভিশন টকশোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সমসাময়িক বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে তিনি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। পূর্বে প্রত্যক্ষ কোনো দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ না থাকলেও, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি ও জাতীয় রাজনীতি নিয়ে তার বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি সংবাদমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে। তবে বিভিন্ন সময় নানা বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে তার টকশো ঘিরে।
সিন্ডিকেটের এই গুরুত্বপূর্ণ পদটিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের দাবি বেশ স্পষ্ট। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করে যারা রাজনীতি করেছেন, দুঃসময়ে ফ্যাসিবাদী নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের জন্য বারবার বঞ্চিত হয়েছেন সবার আগে তাকেই মূল্যায়ন করা উচিত।