Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ভর্তি পরীক্ষায় বাড়তি সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ চূড়ান্ত করেছে প্রশাসন। অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। সে অনুযায়ী ব্যবসায় শিক্ষার পাশাপাশি এখন থেকে বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায়ও আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবেন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা।

গত ২৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এটি চূড়ান্ত হতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছিল। তবে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সিন্ডিকেটে পাসের প্রয়োজন নেই বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটাই চূড়ান্ত। এটা সিন্ডিকেটে আর আলাদা করে করে পাস হওয়ার দরকার নেই।’

যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে বৈষম্য বাড়বে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলেছেন, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা নিলে তাদের ভর্তি সুযোগ বাড়বে, যা এক ধরনের ‘কোটা’র মতো। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুটা হলেও ভর্তিযোগ্য আসন কমার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। ফলে তারা ভর্তিতে বৈষম্যের শিকার হবেন বলে মনে করছেন তারা।

গত ২৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর পক্ষে প্রশাসন দুই ধরনের যুক্তি দিচ্ছে। তাদের মতে, ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের বড় অংশ উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে, ফলে দেশে ‘ব্রেইন ড্রেন’ বা মেধাপাচার হচ্ছে। তাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে আকৃষ্ট করতে ভর্তি পরীক্ষায় বাড়তি সুযোগ তৈরি করা হলে দেশেই শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হবে।

গত ২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর পক্ষে প্রশাসন দুই ধরনের যুক্তি দিচ্ছে। তাদের মতে, ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের বড় অংশ উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে, ফলে দেশে ‘ব্রেইন ড্রেন’ বা মেধাপাচার হচ্ছে। তাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে আকৃষ্ট করতে ভর্তি পরীক্ষায় বাড়তি সুযোগ তৈরি করা হলে দেশেই শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হবে।

গত ২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান ইউনিটের ক্ষেত্রে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম অনুযায়ী আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জানা গেছে, ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটে দীর্ঘদিন ধরেই ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র করা হয়, এমন রীতি চালু আছে। এখন থেকে বিজ্ঞান ইউনিটেও একই ধরনের ব্যবস্থা অনুসরণ করার পক্ষে তারা। যদিও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় কয়েকজন সদস্য এর পরিকল্পনার বিরোধীতা করেছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এর যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেকে একই ধরনের মতামত জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, ইংলিশ মিডিয়ামেরও তো আবার অনেক ক্যাটাগরি আছে। তাহলে এখন কি আলাদা আলাদা করে পরীক্ষা নেবে। সেটি করলে প্রশ্ন আসবে, যারা মাদ্রাসা বা কারিগরি থেকে পাস করছে, তাদের জন্য কি আলাদা পরীক্ষা হবে। তারা আলাদা করে পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে নন। পরীক্ষার প্রশ্ন হতে হবে একটা।

বর্তমানে ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য বহুনির্বাচনি (MCQ) অংশে বাংলা (আবশ্যিক), ইংরেজি (আবশ্যিক), হিসাববিজ্ঞান (আবশ্যিক), ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (আবশ্যিক) এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন অথবা ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমায় ১২ নম্বর করে ৬০ নম্বরের পরীক্ষা হয়।

আর লিখিত অংশে বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ ও ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ, ভুল সংশোধনী (বাংলা), ভুল সংশোধনীতে (ইংরেজি) ৪ করে এবং বাণিজ্য বিষয়ে হিসাববিজ্ঞান (আবশ্যিক), ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (আবশ্যিক) এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন অথবা ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা ৮ নম্বর করে ৪০-সহ মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। 

একই ইউনিটে বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার জন্য বহুনির্বাচনি (MCQ) অংশে বাংলা (আবশ্যিক), ইংরেজি (আবশ্যিক) ও আইসিটি (আবশ্যিক) ১২ করে এবং গণিত/পরিসংখ্যান/অর্থনীতি (যে কোনো ১টি) ২৪ নম্বরসহ ৬০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। আর লিখিত অংশে বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ, ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ, ভুল সংশোধনী (বাংলা) ও ভুল সংশোধনী (ইংরেজি) ৫ করে এবং আইসিটি (আবশ্যিক) ও গণিত/পরিসংখ্যান/অর্থনীতি (যে কোনো ১টি) ১০ করে ৪০-সহ মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়।

এ-লেভেল ও সমমানের পরীক্ষার এমসিকিউ অংশে English (Compulsory) ১৬, Advanced English (Compulsory) ১২, Business Subjects (Any Two)- Business Studies, Accounting, Economics বা Mathematics-এ ১৬ নম্বর করে মোট ৬০ নম্বর থাকে। আর লিখিত অংশে Essay writing, Error Correction, Business Subjects (Any Two)-Business Studies, Accounting, Economics ও Mathematics- এ ১০ করে ৪০-সহ মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়।

বিজ্ঞান ইউনিটেও একইভাবে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি পরীক্ষায় একই ধরনের প্রশ্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে পরীক্ষার্থীদের জন্য বিষয়সংখ্যার পার্থক্যকে বৈষম্যমূলক বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেকে। নানান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই বিজ্ঞান ইউনিটে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্রের প্রস্তাব সিন্ডিকেটের সভায় অনুমোদনের জন্য উঠতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘আলাদা প্রশ্ন করলে অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে সামনে। ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থী খারাপ করলে অভিযোগ আসবে, আলাদা প্রশ্ন করাতে খারাপ করছে। বাংলা মিডিয়ামের জন্য প্রশ্ন সহজ হয়েছে। কিংবা উল্টোটা হবে ইংলিশ মিডিয়ামের প্রশ্ন সহজ হয়েছে, এ কারণে তারা বেশি চান্স পেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখনকার জেনারেশনের দুইটা জায়গা খুব সিগনিফিকেন্ট। একটা হলো হায়ার এডুকেশনের এক্সেস, আর দুই নম্বরে হলো জবে এক্সেস। আমরা দেখলাম যে, জব এক্সেস নিয়ে সরকার পতন হয়ে গেল। এমন সেনসিটিভ বিষয়ে এরকম সিদ্ধান্ত দূরদৃষ্টি সম্পন্ন না। সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ওপেন পরীক্ষা নেবে। কারা আসবে, কে দেশে থাকলো কে চলে গেল, এগুলো দেখার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের না।’

অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রশ্নের প্যাটার্নটাও বদলাতে হবে। প্রশ্নটা করতে হবে এমন, যাতে সবার সমান সুযোগ থাকে। আমাদের কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা কিংবা যেগুলো সরকার অনুমোদিত, আমরা চাই সবাই সমান সুযোগ পাক। কারও প্রতি বৈষম্য না হোক। আলাদা প্রশ্ন করার মাধ্যমে এটা হবে না, বরং বৈষম্য বাড়বে। আর আলাদা প্রশ্ন করা মানে এক ধরনের অস্থিতিশীলতার দিকে যাওয়ার একটা আশঙ্কা থেকে যায়।’

এমন সিদ্ধান্তে বৈষম্য তৈরি হবে কিনা জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) এবং অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে অন্তত সাত-আটটি মিটিং হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মতামতের ভিত্তিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট মিটিংয়ের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।’