Image description
এক টাকায় আট মণ চাল পাওয়া শায়েস্তা খাঁর আমল নয়, অথচ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার অঙ্ক দেখলে মনে হতে পারে, ঢাকা কলেজ এখনও সেই যুগেই আটকে আছে। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভাগ্যে জুটছে মাত্র কয়েকশ টাকা।
 
দরিদ্র তহবিল থেকে এ বছর একজন শিক্ষার্থী গড়ে পাচ্ছেন মাত্র ৩৬৬ টাকা। সবচেয়ে কম সহায়তা পাচ্ছেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভাগের ৮ জন শিক্ষার্থী পাবেন ২০৫ টাকা করে, আর একজন পাবেন ২১০ টাকা। এছাড়া ৩০০ টাকারও কম সহায়তা পাচ্ছেন আরও পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বিভাগগুলো হলো সমাজবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান এবং বাংলা।
 
৪০০ টাকার নিচে সহায়তা পাচ্ছেন ইতিহাস, গণিত ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, ৫০০ টাকার নিচে সহায়তা দেয়া হচ্ছে দর্শন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, রসায়ন, ইংরেজি এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে।
 
এছাড়া অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাবেন ৫৫০ টাকা, পরিসংখ্যান বিভাগে ৭০০ টাকা, ব্যবস্থাপনা বিভাগে ৯০০ টাকা। আর সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০ টাকা করে পাচ্ছেন আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
 
স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির সময় প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে দরিদ্র তহবিলের জন্য ২৫ টাকা করে ফি নেয়া হয়। ১৯ বিভাগের ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আদায়কৃত এই অর্থের পরিমাণ ৪০ হাজার টাকা। সেই অর্থ থেকেই বাছাইকৃত ১০৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে।
 
আর্থিক সহায়তা বিতরণের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, এর চেয়ে সাহায্য না দেয়াই ভালো। যে পরিমাণ অর্থ দেয়া হচ্ছে, তাতে শিক্ষার্থীদের কোনো উপকার হবে না। এ ধরনের সহায়তা শিক্ষার্থীবান্ধব হতে পারে না। সহায়তার পরিমাণ এমন হওয়া উচিত, যাতে এই অর্থ শিক্ষার্থীদের প্রকৃত কাজে লাগে।
 
অসচ্ছল মেধাবীদের পড়াশোনার পূর্ণ সহায়তা সরকারি তহবিল থেকেই আসা উচিত উল্লেখ করে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, ‘এই টাকা দিয়ে সে কী করবে? এই টাকা তো তার কোনো কাজেই লাগছে না। এটা তো এক ধরনের উপহাস। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া লাগবে কেন? এই টাকাটা সরকারের কাছ থেকেই আসবে। শিক্ষা বাজেট কিন্তু প্রতি বছরই ফেরত যায়। যা বরাদ্দ করা হয়, তার সব ব্যয় হয় না; অব্যয়িত থেকে যায়। সেই টাকা দিয়ে যদি আমরা এই মেধাবীদের জন্য মেধাবৃত্তি চালু করে দিই, সেটিই হবে নিয়ম। সারা পৃথিবীতেই এটাই নিয়ম।’
 
সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ‘এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বণ্টন করতে গিয়ে আমরা খুবই বিড়ম্বনায় পড়েছি। কারণ আবেদনের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। সে ক্ষেত্রে অ্যালামনাইদের আহ্বান করব, তারা যেন এ বিষয়ে এগিয়ে আসেন।’
 
প্রতিবছরই দরিদ্র তহবিল থেকে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। কিন্তু এবার যা দেয়া হচ্ছে, তা বিগত সময়ের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কলেজের আসন সীমিত করায় তহবিলেও কম অর্থ এসেছে। এই নামমাত্র সহায়তার বদলে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের কাজে লাগে—এমন পরিমাণ অর্থ পৌঁছাতে বিকল্প তহবিল গঠনের পরামর্শ দিচ্ছেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা।