যুগোপযোগী ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের সিলেবাসে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন এই প্রস্তাবিত সিলেবাসে প্রথাগত পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সফট স্কিলসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত সিলেবাস অনুযায়ী, এখন থেকে প্রথম বর্ষের সকল শিক্ষার্থীর জন্য 'বেসিক আইসিটি' (Basic ICT) কোর্সটি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একইসঙ্গে আউটকাম বেসড এডুকেশন (OBE) কারিকুলামের আলোকে পাঠ্যসূচি উন্নয়নের কাজ শুরু হবে।
দ্বিতীয় বর্ষে শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে 'ইমার্জিং টেকনোলজি' (Emerging Technologies), 'এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা', 'ডিজিটাল সোসাইটি' এবং ইংরেজি ভাষার ওপর বিশেষ কোর্স রাখা হয়েছে।
তৃতীয় বর্ষের পাঠ্যসূচিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রায়োগিক দক্ষতার ওপর। এই স্তরে শিক্ষার্থীরা 'ডাটা অ্যানালিটিক্স' (Data Analytics), এসপিএসএস (SPSS), 'গ্রাফিক্স ডিজাইন' এবং 'ভিডিও এডিটিং'-এর মতো কারিগরি বিষয়গুলো শিখতে পারবে, যা তাদের ফ্রিল্যান্সিং ও চাকরির বাজারে সরাসরি সহায়তা করবে।
চতুর্থ বর্ষে বা চূড়ান্ত বর্ষে একজন শিক্ষার্থীকে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে 'উদ্যোক্তা তৈরি' (Entrepreneurship), আচরণগত 'সফট স্কিলস', 'ক্রিটিক্যাল থিংকিং', 'নেতৃত্ব' (Leadership), 'মানি ম্যানেজমেন্ট' এবং 'আর্থিক সাক্ষরতা' (Financial Literacy) সংক্রান্ত কোর্সগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারকরা আশা করছেন, এই সিলেবাস বাস্তবায়িত হলে উচ্চশিক্ষা শেষ করে শিক্ষার্থীরা কেবল সনদধারী না হয়ে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের জন্য দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে উঠবে।
এর আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘শিফটিং অব প্যারাডাইম’ অংশ হিসেবে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে প্রথমবারের মতো দুইটা সাবজেক্ট বাধ্যতামূলকভাবে চালু করেছি। এটা গত ইয়ার থেকে শুরু হয়েছে। আমরা সেখানে আইসিটি এবং ইংরেজি এই দুইটা সাবজেক্টকে আমরা ম্যান্ডেটরি করে দিয়েছি। তারমানে আপনি যেকোনো সাবজেক্ট পড়েন ইভেন আপনি যদি বাংলাও পড়েন তাহলে আপনাকে আইসিটির এই কোর্সগুলো পড়তে হবে। ইভেন আপনি যদি হিস্ট্রি পড়েন তাহলে আপনাকে ইংরেজি বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে। তার মানে আপনি কম্পিউটার সায়েন্স, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান পড়েন আপনার কোনো অসুবিধা নেই। আপনাকে আইসিটিটা বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে।
এই আইসিটিটা বাধ্যতামূলক পড়তে হবে বললেই তো হবে না। আমাদের তো শিক্ষক লাগবে। আইসিটি পড়ানোর শিক্ষকের পরিমাণ অনেক কম। সেজন্য আমরা আইসিটিতে এটুআই, আইসিটি ডিভিশন এবং ইউনিসেফ তাদের সহযোগিতায় আমরা আইসিটির উপরে আমরা প্রায় কো-ট্রেইনার তৈরি করেছি। ওনারা প্রায় ৯০০-র মতো মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করেছেন। এই ৯০০ মাস্টার ট্রেইনার এখন সারাদেশে প্রায় ১২ হাজার আইসিটি শিক্ষককে ট্রেনিং দেওয়া শুরু করেছে।