পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ছাত্রীদের গণতন্ত্র হলে কিছু স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে ছাত্রীদের গোপনীয়তা বিঘ্নসহ নানাবিধ সমস্যার কথা জানিয়েছেন তারা। এতে দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক নারী শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ভোগান্তিতে থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেক শিক্ষার্থী হলটিকে ‘জেলখানার মতো’ বলে অভিহিত করেছেন।
খোঁজ নিলে জানা গেছে, প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর আবাসস্থল এই হল চালুর পর থেকেই শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য তারা নিয়মিত হল প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপেও বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। তবে এতকিছুর পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। অনেক শিক্ষার্থী খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি করেছেন। অথচ বিকল্প হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিজ উদ্যোগে রান্নার সুযোগ নেই; তারা গ্যাস সিলিন্ডার বা অন্যান্য রান্নার ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারছেন না। রান্নাঘরসহ হলের ওয়াশরুম ও ফ্লোর নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি ফ্লোরে নামাজের কক্ষ থাকলেও সেগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও এখনো তা খুলে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এছাড়া হলের বেশিরভাগ পানি পরিশোধন (ফিল্টার) যন্ত্র অকেজো হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়ছেন। শুরু থেকেই লিফটের সমস্যা থাকায় উচ্চতলার শিক্ষার্থীদের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে।
অন্যদিকে, হলের বিভিন্ন ফ্লোরে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবাসিকরা। তাদের দাবি, কিছু স্থানে ক্যামেরা স্থাপনের কারণে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বিঘ্নিত হচ্ছে, যা নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উদ্বেগজনক। এসব সমস্যার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেক শিক্ষার্থী গণতন্ত্র হলকে ‘জেলখানার মতো’ বলে অভিহিত করেছেন।
নতুন হল হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কয়েকদিন একজন ক্লিনার অসুস্থ থাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় কিছুটা দেরি হয়েছে, তবে আমরা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেছি। হলের অনেক শিক্ষার্থী আগে মেসে থাকায় ডাইনিংয়ের খাবার তাদের কাছে ভিন্ন লাগতে পারে, তবে শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী খাবারের মান উন্নয়নের চেষ্টা চলবে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া যায়— লায়লা আনজমান বানু, প্রভোস্ট পাবিপ্রবি গণতন্ত্র হল
২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, হলে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সমস্যায় তারা ভোগান্তিতে রয়েছেন। বিশুদ্ধ পানির জন্য ফিল্টারগুলো বেশিরভাগই অকেজো। এত শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও সচল লিফটের সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় প্রতিনিয়ত ভিড় ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ওয়াশরুমগুলোও নিয়মিত ও মানসম্মতভাবে পরিষ্কার করা হয় না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ডাইনিং ব্যবস্থাপনা খাবারের মান ও বৈচিত্র্য অত্যন্ত নিম্নমানের, অতিরিক্ত ঝাল ও অরুচিকর হওয়ায় অনেকেই বাইরে খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি ডাইনিং কর্মীদের আচরণ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য হল প্রশাসনের কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

হলের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানান, অন্য হলে রান্নার ব্যবস্থা থাকলেও এখানে চা-কফি তৈরি করাও যেন বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে; কারণ অযৌক্তিকভাবে রান্নাঘর প্রায়ই বন্ধ রাখা হয়। ডাইনিংয়ের খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং প্রতিদিন একই ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়, যা খেয়ে সুস্থ থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। হলের চারটি লিফটের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তিনটিই নষ্ট থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে ক্লাসের সময় একটি লিফটের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেকেরই ক্লাস মিস হয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ফ্লোরে নামাজের কক্ষ থাকলেও সেগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে; একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও এখনো তা খুলে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, হলের বিভিন্ন জায়গা, বিশেষ করে করিডোর ও ওয়াশরুমের সামনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন হওয়ার কারণে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়াও হলের মধ্যে হঠাৎ করেই কাজের লোক চলে আসে কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই কখনো ইন্টারনেটের কাজের জন্য, কখনো ইলেকট্রিক সংক্রান্ত কাজের জন্য। প্রশাসনের উচিত এসব বিষয় নিয়ে কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট লায়লা আনজমান বানু বলেন, ‘নতুন হল হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কয়েকদিন একজন ক্লিনার অসুস্থ থাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় কিছুটা দেরি হয়েছে, তবে আমরা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেছি। হলের অনেক শিক্ষার্থী আগে মেসে থাকায় ডাইনিংয়ের খাবার তাদের কাছে ভিন্ন লাগতে পারে, তবে শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী খাবারের মান উন্নয়নের চেষ্টা চলবে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। পানির ফিল্টারের কিট পরিবর্তনের বিষয়েও ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করা হবে। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে প্রতিটি রান্নাঘরে সাবমারসিবল ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’