
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেছে ছাত্রদলসহ কয়েকটি স্বতন্ত্র প্যানেল। এ ছাড়া আজ ইশতেহার ঘোষণা করবে শিবির সমর্থিত প্যানেল। ইশতেহারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সমস্যা তুলে ধরছেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যৌক্তিক সমাধানের। তবে সতর্কভাবে সবকিছু পর্যালোচনা করছে শিক্ষার্থীরা। ইশতেহার কতোখানি বাস্তবায়ন সম্ভব, সে হিসাব-নিকাশ কষছেন ভোটাররা। এদিকে ডাকসু নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই।
করবো। আর যুগ যুগ ধরে একই সিলেবাসে, একই প্রশ্নে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয় এবং শিক্ষকদের কোনো ইভ্যালুয়েশনও হয় না। এ বিষয়টি আর যাতে না হয় সে বিষয়ে আমি লক্ষ্য রাখবো।
স্বতন্ত্রদের একই প্রতিশ্রুতি
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় সকলেই একই রকম সমস্যাগুলোকে সমাধান করবেন বলে আশ্বাস দিচ্ছেন। এ ছাড়া খুব বেশি অভিনব কোনো ইশতেহার কারও কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। তবে ব্যতিক্রম স্বতন্ত্র গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদপ্রার্থী সানজিদা তন্বী। গবেষণায় একাধিক অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি এ পদে বেশ কিছু যৌক্তিক ইশতেহার দেখাতে পেরেছেন বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে এ প্রার্থীর। একই অবস্থা স্বতন্ত্র এজিএস পদপ্রার্থী তাহমিদ আল মুদ্দাসসিরের ক্ষেত্রেও।
এদিকে প্রার্থীদের এসব ইশতেহার নিয়ে বিভিন্ন রকম মতামত পাওয়া গেছে শিক্ষার্থীদের। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজ আলম অনিক বলেন, প্রার্থীদের সদিচ্ছা থাকলে এবং প্রশাসনের সহযোগিতা থাকলে অবশ্যই ইশতেহারের কিছু কিছু দিক বাস্তবে প্রতফলিত করা সম্ভব। তবে অনেক প্রার্থীই ইশতেহারে এমন অনেক কিছু যুক্ত করছেন, যা আদৌতে বাস্তবায়নযোগ্য কিনা এবং তা তার কর্মপরিধির মধ্যে পড়ে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা আছে। দিনশেষে প্রত্যেকেই একটি সুন্দর ক্যাম্পাস গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের সেই লক্ষ্য পূরণে প্রত্যেকেই কাজ করবে বলে আশাবাদী আমি।
এদিকে তিন কারণে অধিকাংশ প্রার্থীর ইশতেহার বাস্তবায়নযোগ্য নয় বলে মনে করছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আসিফ রহমান। তিনি বলেন, ডাকসু’র প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে আমার মনে হয় না ইশতেহার বাস্তবায়ন হতে পারবে। তিনটা কারণে। ১. ঢাবির প্রচণ্ড বাজেট সংকট। ২. রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার হানাহানি। ৩. প্রধান কারণ হিসেবে ডাকসু নির্বাচন অনিয়মিত হওয়াটাকে আমি মনে করি।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শাহেদ ইমন বলেন, আমরা অনেক ইশতেহার দেখছি; যা ঢাবির ছাত্র হিসেবে স্বপ্নের ক্যাম্পাসের। কিন্তু আমরা ইতিমধ্যে এমন অনেক ইশতেহার দেখেছি, যা এক বছরে বাস্তবায়নযোগ্য নয়। এই জায়গায় সদিচ্ছা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন করা যাবে না- এমন ইশতেহার যারা দিচ্ছে তাদেরকে ভেবেচিন্তে ভোট দেয়া উচিত। আমরা মনে করছি সব ইশতেহার বাস্তবায়ন না হলেও সদিচ্ছা থাকলে অধিকাংশ বাস্তবায়ন করা যাবে।
প্রসঙ্গত, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫ আগামী ৯ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ৫০৯ জন প্রার্থীর মাঝে শীর্ষ পদসহ সভাপতির (ভিপি) জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৪৮ জন। সবশেষ প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৩৯ হাজার ৬৩৯ জনের নাম রয়েছে।