Image description

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কলা ও মানবিক অনুষদের নবনিযুক্ত ডিন অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ডিন নিয়োগ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে দায়িত্ব গ্রহণে প্রকাশ করেছেন অপারগতা।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন নিশ্চিত করেছেন বিষয়টি।

জানা যায়, গত ১২ মে তিনি রেজিস্ট্রার বরাবর এক চিঠি পাঠিয়ে দায়িত্ব গ্রহণে প্রকাশ করেন অপারগতা। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় ডিন নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্বান্ত গ্রহণে অস্পষ্টতা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-২০০৬ মোতাবেক কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন নিয়োগ বিধি বর্হিভূত মনে করায় উক্ত পদে দায়িত্ব গ্রহণে বিব্রত ও অপারগত প্রকাশ করছেন তিনি।

অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেছেন, 'ডিন নিয়োগে যে বিধি রয়েছে, সে বিধি মোতাবেক হয়নি ডিন নিয়োগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চাইলে একক বিশেষ ক্ষমতাবলে নিতে পারেন যেকোনো সিদ্ধান্ত। তবে সেটি হতে হয় সুনির্দিষ্ট কোনো প্রেক্ষাপটে। কিন্তু কোন প্রেক্ষাপটে ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা অফিস আদেশে করা হয়নি উল্লেখ। যদি একক ক্ষমতাবলে ডিন নিয়োগ দেওয়া হতো, তাহলে আইনের কোন ধারায় এবং কোন প্রেক্ষাপটে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেটি উচিত ছিল উল্লেখ থাকা।'

তিনি আরও বলছিলেন, '৫ আগস্টের পরবর্তী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং গত ১৩ মার্চ ডিনদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ছিল একটি বিশেষ পরিস্থিতি। তখন তো একক ক্ষমতাবলে করা হয়নি ডিন পরিবর্তন। এখন কোন উদ্দেশ্যে এটি করা হলো, তা বোধগম্য নয়। সিন্ডিকেটে যেখানে আইন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে ডিন নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেখানে কোনো আইন বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছামতো, কোনো প্রেক্ষাপট উল্লেখ না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে কীভাবে নিয়োগ দেওয়া হলো ডিন। এ কারণে আমি বিষয়টি নিয়ে বিব্রত এবং দায়িত্ব গ্রহণে প্রকাশ করেছি অপারগতা।'

রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বললেন, 'আমি চিঠি পেয়েছি। ওনি যেহেতু অপারগতা প্রকাশ করেছে দায়িত্ব পালন করতে তাহলে আমাদের দায়িত্ব দিতে হবে আরেকজনকে, কিছু করার নেই।'

তিনি আরও বললেন, 'ওনি যে আইনের ব্যাখ্যা দিয়েছে এখানে সেই আইন অনুযায়ী তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় নাই। ডিন নিয়োগ নিয়ে করা মামলার সমাধান হওয়ার আগ পর্যন্ত ভিসি স্যার তার একক ক্ষমতাবলে তাদেরকে অন্তর্বর্তিকালীন সাময়িক সময়ের জন্য দিয়েছেন দায়িত্ব৷ আইন বিশেষজ্ঞের মতামত আসলে সেই অনুযায়ী নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে ডিন৷' 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলছিলেন, 'এটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য প্রদান করা হয়েছে দায়িত্ব। সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আইন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে পরবর্তীতে ডিন নিয়োগ দেওয়া হবে পূর্ণাঙ্গভাবে। আপাতত কিছু দিনের জন্য তাদের দেওয়া হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়েছে আইন মেনেই।'

প্রসঙ্গত, গত ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমকে ডিন নিয়োগ দেওয়া হয় কলা ও মানবিক অনুষদের।