Image description

ছোট ও বড়পর্দায় ছোট ছোট কমেডি চরিত্রে অভিনয় করেছেন শামীম হোসেন প্রায় তিন দশক ধরে। আগে সারা বছর লাইট ক্যামেরা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও গত তিন-চার বছর ধরে এই অঙ্গনে সময়টা মোটেই ভালো যাচ্ছে না তার। বর্তমানে কাজের অভাবে দিশাহারা এই অভিনেতা চরম আর্থিক অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবার নিয়ে এই শহরে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন এই অভিনেতা।

 

বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে শামীম জানান, গত দুই মাস ধরে ইউটিউব চ্যানেলের কোনো কাজও পাচ্ছেন না। এমন অবস্থায় সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছি। আমার মাসুম বাচ্চাগুলোর কোনো চাওয়া নাই, কোনো চাহিদা নাই। আমি তাদের বলছি- বাবারা, ঈদে তোমাদের কিছু লাগবে, পরিস্থিতি কিন্তু তোমরা দেখতেছো! ওরা বলে, বাবা, কোনো চাওয়ার নাই।

 

শামীম জানান, বেঁচে থাকার তাগিদে শৈশবে রাস্তায় নামতে হয় তার। হাড়ভাঙা খাটনির মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা। পরিবারের সদস্যদের মুখে অন্ন তুলে দিতে জড়াতে হয়েছে ছোটখাটো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও।

 

তার কথায়, ১৯৮৮-এর বন্যায় মতিঝিল-শান্তিনগরে নৌকা ঠেলতাম। সে সময় পরিবার বাঁচাতে ম্যানহোলে ঢাকনা চুরি করতাম, বিল্ডিংয়ের পাইপ খুলে বিক্রি করতাম। পরে দেখলাম ধরা পড়লে হাতুড়ি দিয়ে পেটায়। হাত থেঁতলে দেয়। তাই কাজটি শেখা হয়নি। সাত দিন পর চলে আসি। এরপর শান্তিনগর-মালিবাগ বাজারে কুলিগিরি করেছি। একটা সময় বেইলি রোডে দিনে রিকশা চালাতাম, রাতে কাগজ টোকাতাম।

 

 

বেইলি রোড থেকেই ভাগ্য বদলায় শামীমের। সুযোগ পান অভিনেত্রী ও নির্মাতা আফসানা মিমির জনপ্রিয় ধারাবাহিক বন্ধনে। জোটে তুমুল জনপ্রিয়তা। নাটকের হাস্যরসাত্মক চরিত্রগুলোতে ডাক পড়তে থাকে তার। নাম লেখান সিনেমায়ও। ২০-২৫ টির মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। দুহাতে অর্থও এসেছে তখন। তবুও দিনশেষে শূন্য হাতের কারণ কী? শামীম জানালেন, খরচ হয়েছে বাবা-মায়ের চিকিৎসায়।

 

শামীম বলেন, আব্বার ব্রেন ক্যানসার হয়েছিল। এটা মিডিয়ার কেউ জানে না। জমানো যা টাকা ছিল চিকিৎসায় শেষ হয়ে যায়। বাচ্চাদের নামে যে ডিপোজিটও ভাঙি তখন। অন্যদিকে মা ছিলেন ব্রেন স্ট্রোকের রোগী। তাকেও দেখতে হয়েছে। চিকিৎসা করিয়েছি নিজের টাকা দিয়েই। পাশাপাশি অনেকে সাহায্য করেছে। অনেকে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন।’

 

কষ্টের কথা বলতে শামীম চোখ মুছে বলেন, এত কষ্টের কথা বলা যায় না। ১২ বছর বয়স থেকে জীবনযুদ্ধ শুরু হয়েছে। সুপারম্যানের মতো খেটে যাচ্ছি। কিন্তু এই বয়সে এসে দেখি হাতে কিছুই নেই। আউটপুট জিরো।

 

তার কথায়, এত নাটক করলাম অথচ এখন আমার খাওয়ার টাকাই থাকে না!’ কথা বলতে পারলেন না শামীম। শ্লেষের হাসি হাসলেন। যেন নিজেই জীবনকে উপহাস করছেন!

 

কাজে ফেরানো আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, আমি কারও কাছে আর্থিক সাপোর্ট চাইব না। আমি যদি হাত পাতি তাহলে আমার রবের কাছে চাইব। আমি শুধু একটা জিনিসই চাইব, আমাকে ঈদের পর থেকে কাজে ডাকেন সবাই। আমি নাটকের ডায়ালগ অ্যাক্টিং ভুইলা যাইতাছি গা। আমার কোনো টাকাপয়সা লাগবে না। আমি শুঁটকি ভর্তা ভাত খামু কিন্তু আমারে একটু কাজ দিয়েন।