দেশের সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফকে (হানিফ সংকেত) ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা।
এছাড়াও, ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ (মুক্তিযুদ্ধ), প্রয়াত মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মুক্তিযুদ্ধ), অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চিকিৎসা বিদ্যা), প্রয়াত ড. আশরাফ সিদ্দিকী (সাহিত্য), প্রয়াত বশির আহমেদ (সংস্কৃতি), জোবেরা রহমান লিনুকে (পল্লী উন্নয়ন) স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
সমাজসেবা/জনকল্যাণের জন্য প্রয়াত ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী (সমাজসেবা/ জনকল্যাণ), এস ও এস চিলড্রেন্স ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ, মো. সাইদুল হক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর) এ পুরস্কার পাচ্ছেন।
জনপ্রশাসনে স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর)। গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অবদানের জন্য মোহাম্মদ আবদুল বাকী পিএইচডি, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
এদিকে পল্লী উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) স্বাধীনতা স্বাধীনতা পুরস্কার পাবে।
বলে রাখা যায়, হানিফ সংকেত একাধারে তিনি উপস্থাপক, পরিচালক, লেখক, প্রযোজক, গায়ক, সুরকার ও গীতিকার। ইত্যাদিতে প্রচারিত জেলা ভিত্তিক বেশিরভাগ প্যারেডি গানের (দলীয় সংগীত) সুর করেন হানিফ সংকেত। শুধু তাই নয় সেই গানগুলোতে কণ্ঠও দেন তিনি।
গানের বাইরে নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন হানিফ সংকেত। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক ‘কুসুম’, যেটি নির্মাণ করেছিলেন প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ। ১৯৮৮ সালে ‘আগমন’ নামের সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। শুধু তাই নয়, এখানে তাকে খলনায়কের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। এরপর ‘চাঁপা ডাঙ্গার বউ’, ‘ঢাকা-৮৬’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন কিংবদন্তি এই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।