Image description

কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করার ঘটনায় একজন জড়িত থাকার কথা বলছে পুলিশ। তবে তাকে শনাক্ত করা যায়নি।

শনিবার ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর মগবাজার এলাকায় তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়।

এসময় আসিফ আকবর বিশাল সেন্টারের তিনতলায় তার স্টুডিওতে ছিলেন। চালকও গাড়ির কাছে ছিলেন না, বলছে পুলিশ।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ‘ঘটনার সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা বিশাল সেন্টারের সামনে এসে থামে। সেখান থেকে একজন নেমে এসে আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি করে আবার অটোরিকশায় উঠে মালিবাগের দিকে চলে যান। তবে অটোরিকশায় আরও কেউ বসা ছিল কিনা সে বিষয়টি তদন্তে বেরিয়ে আসবে।’

 

চালকের আসন বরাবর পিছনের আসন লক্ষ্য করে গুলি করা হয় জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘গুলি এক রাউন্ড করা হয়েছিল। গুলিতে গ্লাস ভেঙে যায়।’

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আসিফ আকবর তার স্টুডিওতে আসেন। সেখানে তার কয়েকজন বন্ধুও ছিলেন। বন্ধুরা রাত ৩টার দিকে চলে যান।

 

শনিবার সকালে ঘটনার সময় কাছাকাছি দূরত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মী গুলির শব্দ শুনে ছুটে আসেন এবং গাড়িতে গুলির চিহ্ন দেখে আসিফ আকবরকে জানান। পরে আসিফ আকবর নিচে নেমে পরিস্থিতি দেখে জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯ খবর দেন।

 

পুলিশের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আসিফ আকবরের সাথে কথা বলেন। তবে তিনি কাউকে সন্দেহ করছেন না বা তার কোনো অভিযোগ না থাকার কথা ঘটনাস্থলে আসা পুলিশকে বলেন।

 

তিনি বলেন, ‘তারপরেও আমরা চেষ্টা করছি। ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। একটি ফুটেজ পাওয়া গেছে, যেখানে হামলাকারীর শুধু পা দেখা গেছে। এই ফুটেজের সূত্র ধরে আমরা পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে কাজ করছি।’

 

আসিফের আকবরের সঙ্গে তার অফিসের কারো বিরোধ আছে কি না, তার কোনো বৈধ অস্ত্র আছে কি না বা না থাকলে নতুন আবেদন করেছেন কি না, তিনি তার এলাকা কুমিল্লায় স্থানীয় নির্বাচন করবেন কি না বা তার সঙ্গে কারো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার কথা বলছে পুলিশ।

 

হাতিরঝিল থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এটি পিস্তলের গুলির খোসা। তবে কি মডেলের গুলি, সেটি ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।’

 

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি আসিফ আকবরের কাছে থাকলেও তা পুলিশের নজরদারির মধ্যে রয়েছে এবং আরও তল্লাশি করা হবে।