বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচন শেষ হলেও তা ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা এখনো থামেনি। ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন শিল্পী। এর মধ্যে চিত্রনায়িকা পলির ‘নির্বাচনে অর্থের প্রভাব’ থাকার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা সানু। তিনি মনে করেন, জয়-পরাজয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ। নির্বাচনে পরাজয়ের পর অনেক সময় হতাশা কিংবা অভিমান থেকে নানা ধরনের মন্তব্য আসতে পারে। তাই পলির অভিযোগকেও তিনি সেই দৃষ্টিতেই দেখছেন।
শিবা সানু বলেন, ‘নির্বাচনে পরাজয় হলে স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ হয়। এরপর বিভিন্ন ধরনের কথা শুনতে হলে সেই কষ্ট আরও বেড়ে যায়। আমি বিশ্বাস করি, সময়ের সঙ্গে এই খারাপ লাগা কেটে যাবে।’
নবনির্বাচিত কমিটির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, শিল্পী সমিতির কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে একাধিক উপকমিটি গঠন করা হবে। সেখানে শুধু নির্বাচিত সদস্যরাই নন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া পরাজিত প্রার্থীদেরও সম্পৃক্ত করা হবে, যাতে সবাই মিলে শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করতে পারেন।
তার ভাষায়, ‘যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তারা সবাই শিল্পীদের জন্য কাজ করার লক্ষ্য নিয়েই এসেছেন। তাই তাদের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহকে কাজে লাগাতে চাই। উপকমিটিগুলোতে তাদের যুক্ত করা হবে, যাতে সবাই মিলে শিল্পী সমিতিকে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়।’
পলির অর্থের প্রভাব সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে শিবা সানু বলেন, ‘তিনি যে অভিযোগ করেছেন, আমার মনে হয় না কেউ টাকার জন্য এখানে এসেছে। হয়তো পরাজয়ের কষ্ট থেকেই এমন মন্তব্য করেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে আগে তার সঙ্গে কথা বলতে চাই। তিনি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছেন, সেটা শুনব। এরপর প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সবশেষে তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হয়েছে। এখন ব্যক্তিগত মতভেদ বা বিভেদ ভুলে শিল্পীদের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার সময়। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিল্পী সমিতিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলাই হবে নতুন কমিটির প্রধান লক্ষ্য।