প্রেমে বা দাম্পত্যে সঙ্গীর সঙ্গে একবার যে প্রতারণা করে, তার ভবিষ্যতে আবারও একই কাজ করার সম্ভাবনা প্রবল। যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি চারিত্রিক ধরন। গবেষণার ফল বলছে, আগের সম্পর্কের আচরণের মাধ্যমেই বোঝা সম্ভব একজন ব্যক্তি ভবিষ্যতে কেমন আচরণ করবেন।
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট কায়লা নোপের নেতৃত্বে ৪৪৮ জন অবিবাহিত ব্যক্তির ওপর দীর্ঘ মেয়াদে এই গবেষণা চালানো হয়। ২০১৭ সালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, যারা আগের সম্পর্কে অবিশ্বস্ত ছিলেন, পরবর্তী সম্পর্কেও তাদের প্রতারণা করার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় তিন গুণ বেশি। কায়লা নোপ বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে অতীত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোমান্টিক ইতিহাসে আমরা প্রতিটি ধাপে যা করি, তার প্রভাব পরবর্তী ধাপে পড়ে।
গবেষণার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, যাদের সঙ্গে আগে প্রতারণা করা হয়েছে, পরবর্তী সম্পর্কেও তাদের প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা চার গুণ বেশি। এমনকি যারা আগে সঙ্গীকে সন্দেহ করতেন, তাদের পরের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সন্দেহ করার প্রবণতা চার গুণ বেশি দেখা গেছে।
গবেষকদের মতে, এটি মানুষের আচরণ ও সঙ্গী নির্বাচনের অবচেতন ধরনের প্রতিফলন।
আগে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকলেও বর্তমানে বিশেষ করে ৪৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এই পার্থক্য কমে আসছে। ২০১৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরকীয়া করলেই যে মানুষ অসুখী, তা সবসময় ঠিক নয়। প্রতারণা করা ৫৬ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৪ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তারা তাদের মূল সম্পর্কে ‘সুখী’ বা ‘অত্যন্ত সুখী’ ছিলেন।
২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক করা প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ তাদের কর্মক্ষেত্রে বাইরে সঙ্গীর খোঁজ পান। ২০২৬ সালের সবশেষ এক গবেষণায় উঠে এসেছে, নারীরা সাধারণত সম্পর্কে অতৃপ্ত থাকলে এ ধরণের প্রতারণা করেন এবং তারা বিষয়টিকে নানাভাবে যুক্তিসঙ্গত করার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, পুরুষরা শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশি উদার মনোভাব পোষণ করতে পারেন। তবে সঙ্গীর শারীরিক প্রতারণা পুরুষদের বেশি কষ্ট দেয়, আর নারীরা মানসিক প্রতারণায় বেশি ভেঙে পড়েন।
সূত্র: উইয়ন নিউজ