Image description

শোবিজে তার স্বতন্ত্র ছাপ স্পষ্ট। এতে কখনও তিনি কঠোর সমালোচনার শিকার হয়েছেন, আবার কখনও-বা পেয়েছেন ভূয়সী প্রশংসা। রাষ্ট্রীয় রোষানলে পড়ে সেন্সর জটিলতায় বছরের পর বছর আটকে ছিল তার সিনেমা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এমন নানা অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে গেছেন নির্মাতা ও সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এবার নতুন চিত্রনাট্য লেখার সময়ে পুরোনো সেসব দিনের অবতারণা করলেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে সিনেমা নির্মাণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফারুকী বলেন, ‘আমার জীবনের একটা ট্র্যাজিক (করুণ) দিক আছে। সিনেমা মুক্তির সময় আমার জ্বর এসে যায়। এর কারণ হচ্ছে ছবি মুক্তি পরবর্তী আক্রমণের আশঙ্কা।’

যোগ করে এই নির্মাতা বলেন, ‘আমি যখন যে সিনেমাই বানাই, মুক্তি পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাই- এটা কোনো সিনেমাই হয় নাই। ফালতু। ক্ষুণ্ন মন নিয়ে আমি তখন অন‍্য কাজে মন দিই। ভুলে যাই আগের কাজের কথা। দশ বছর পরে দেখি সেই “ফালতু” সিনেমাকেই ক্লাসিক কাজ হিসেবে নতুন দর্শকরা পরিচয় করিয়ে দেয়। মিথ্যা বলব না, ব‍্যাপারটা ভালো লাগলেও ততদিনে আমার প্রাণশক্তি অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। যে ভালোবাসা আগে পাইলে হয়তো আমি শারীরিকভাবে আরও তাজা থাকতাম। এই ঘটনা “ব‍্যাচেলর”, “মেড ইন বাংলাদেশ”, “থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার”, “টেলিভিশন”, “৪২০”- সবক্ষেত্রেই হইছে।’

প্রশ্ন রেখে ফারুকী বলেন, ‘আমি ঠিক বুঝতে পারছি না আমার এখন কী করা উচিত? আমি কি এখন থেকে ফিল্ম বানায়ে দশ বছর ভল্টে রেখে তারপর রিলিজ দিব?’

তিনি বলেন, ‘শিল্পচর্চার মতো ভালনারেবল (সমালোচনার যোগ্য) কোনো কাজ আর নাই। স্পেশালি সেটা যদি হয় সিনেমা। আপনি কারও দৃষ্টিতে একটা “খারাপ” কবিতা লিখলে সে আপনাকে মারতে তেড়ে আসবে না। কিন্তু সিনেমা?’

সবশেষে পাদটীকা দিয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, নতুন একটি চিত্রনাট্য লিখছেন তিনি। ফলে তার মনে মাঝেমধ্যেই অতীতের সেসব ঘটনা প্রতিফলিত হচ্ছে।

তার কথায়, ‘লেখাটা পোস্ট করে মনে হইলো, যারা আমার কাজ ভালোবাসে, আমি কি তাদের ভুলে গেলাম? উত্তরটা- না! আমারে শিল্পী হিসেবে বাঁইচা থাকার উৎসাহ আপনারা যারা দিছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’