‘কী নেই’
রাজধানীর নিউমার্কেট–সংলগ্ন ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটের নিচতলার বড় অংশজুড়ে ক্রোকারিজের দোকান। ঢুকলেই চোখ ধাঁধিয়ে যায়। কী কী পণ্য আছে, এমন প্রশ্নে বিক্রেতার পাল্টা প্রশ্ন, ‘কী নেই?’ সত্যিই তা–ই! থালা, বাটি, খাবার ও পানীয় পরিবেশনের পাত্র, চায়ের কাপ–পিরিচ, কেটলি, ডিনার সেট, ফিরনি সেট, পিৎজা প্লেট, মগ, জগ, নানা আকৃতির ট্রে, গ্লাস, চামচ ও বাহারি সংরক্ষণ পাত্র—সবকিছু থরে থরে সাজানো। অধিকাংশ পণ্যই সিরামিক, পাইরেক্স ও কাচের তৈরি। বাংলাদেশি ছাড়া চীন ও থাইল্যান্ড থেকে এসব পণ্য আসে। সিরামিক ও কাচ ছাড়া আছে ধাতব, কাঠ ও বাঁশের তৈরি পণ্য।
উপহার দিতেও ক্রোকারিজ পণ্য কেনেন অনেক ক্রেতা। চাহিদার শীর্ষে আছে সিরামিকের পণ্য। বিক্রেতারা জানান, চা পরিবেশনের সামগ্রীর বিক্রি বেশি। ঈদ সামনে রেখে সিরামিকের প্লেটের বিক্রি বেড়েছে। মাংস বা স্যুপ রাখার ঢাকনাসহ বড় পাত্র কেসারলও কিনছেন ক্রেতারা। এসবের পাশাপাশি বেড়েছে রান্নার সামগ্রীর বিক্রি। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে কড়াই ও প্রেশার কুকার। রান্নার সামগ্রীর ক্ষেত্রে ব্যবহারের পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে নকশা।
বাহারি রং আর নকশা
ক্রোকারিজের বাজারে সাদা রঙের আধিক্য বেশি। তবে সম্পূর্ণ সাদা রঙের তৈজসের চল আর নেই। কিছু নকশা থাকছেই। অধিকাংশই ফুল ও লতার নকশা। আছে জ্যামিতিক প্যাটার্ন ও রেখার নকশা। সম্পূর্ণ সাদা রঙের পাত্রের প্রান্তে আছে সোনালি প্রলেপ। এ ছাড়া মেরুন, আকাশি, কালো, হলুদ, গোলাপি, কমলা, লাল এসব রঙের পণ্যও আছে। থালায় মধ্যভাগ ফাঁকা রেখে কিনারে নকশার প্রচলিত ধারাই বজায় আছে। তবে কিছু থালার মধ্যভাগে সরু রেখায় আঁকা ফুলের নকশা পাওয়া যায়।
শিশুদের থালায় জায়গা পেয়েছে পরিচিত কার্টুন চরিত্র ও শিশুদের উপযোগী ছবি। চায়ের পট, কাপ ও পিরিচে বাহারি নকশার দেখা মেলে। চা পরিবেশনের এই সামগ্রীগুলোয় এখন ঘন নকশার চল। সাদা পাত্রের গায়ে লতা দিয়ে যুক্ত আছে ছোট ছোট ফুল। কোথাও আবার বড় ফুলের থোকা ও পাখির নকশা। কফি ও পানির মগগুলো একরঙা। অনেক মগের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে হাল আমলের কিছু জনপ্রিয় গানের লাইন।
কাঠের ক্রোকারিজ
একসময় ক্রোকারিজ মানেই ছিল সিরামিকের সামগ্রী। তবে এখন সে চিত্র বদলেছে। কাঠের তৈরি নানা সামগ্রী খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিচ্ছে। রাজধানীর মিরপুর–১ ও মিরপুর–১২–এর লাইফস্টাইল ও ফ্যাশন ব্র্যান্ড কিউরিয়াসের আউটলেটে পাওয়া গেল কাঠের ক্রোকারিজ। বাটি, প্লেট, ট্রে, চামচ ও পরিবেশনের পাত্র সবই কাঠের তৈরি। গোল, ঢেউখেলানো, পাতা আকৃতি, হাঁড়ি আকৃতি, ত্রিভুজাকার—নানা আকৃতির কাঠের বাটি। কোনোটি মসৃণ, কোনোটিতে আবার রেখা ও বিন্দুর খোদাই করা নকশা। বেশির ভাগ বাটি কাঠ রঙের। তবে বাইরের অংশে হলুদ কিংবা সবুজ রঙের বাটিও আছে। নাশতা ও খাবার পরিবেশনের থালায় গাছের গুঁড়ির নকশা বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করেছে। নাশতা পরিবেশনের থালাগুলো গোলাকৃতি, তবে কিনারা অসমান। পোলাও পরিবেশনের জন্য আছে ডিম্বাকৃতির লম্বা থালা। আলাদা করে দৃষ্টি কাড়বে আস্ত কাঠের টুকরা আকৃতির ট্রে। ছোট ও মাঝারি দুই মাপেই এটি পাওয়া যাবে। কাবাব পরিবেশনের জন্য আছে লম্বাটে ট্রে; পাওয়া যাবে বিভিন্ন সংরক্ষণ পাত্র। নানা আকৃতির কাচের সেসব পাত্রে আছে কাঠ ও বাঁশের তৈরি ঢাকনা।
দাম
বাজারে নানা মানের ক্রোকারিজ পণ্য আছে। ফলে দামেও দেখা যায় বিপুল বৈচিত্র্য। একটি পট, ছয়টি কাপ ও পিরিচের ভালো মানের একটি চা পরিবেশন সেটের দাম সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। একটি কফি মগের দাম ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। আলাদা করে প্রতি প্লেটের দাম ৭০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। তিন সেটের কেসারল সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। ৩২ পণ্যের সমন্বয়ে একটি ডিনার সেটের দাম ৩ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ৫২ পণ্যের ডিনার সেট সর্বনিম্ন ৭ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা। বিক্রেতারা জানান, তিন লাখ টাকার ডিনার সেটও আছে। ৭ পিসের একটি ফিরনি পরিবেশন সেটের দাম ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা।
ভিন্ন ভিন্ন কাজে ব্যবহৃত কাঠের ট্রের দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কাঠের পরিবেশন প্লেট ১ হাজার ৭০০ টাকা। বিভিন্ন আকৃতির কাঠের বাটি ৯০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা।