ভারতীয় সিনেদুনিয়াকে, বিশেষ করে টলিউডকে শোকস্তব্ধ করে শুটিং করতে গিয়েই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাংলা সিনেমা-সিরিয়ালের অত্যন্ত পরিচিত মুখ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তার হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ও হতবাক সিনেমা অঙ্গন।
দিঘার তালসারিতে ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’র শুটিং করছিলেন অভিনেতা রাহুল। সেখানেই দুর্ঘটনায় চোখের পলকে তলিয়ে গেলেন অভিনেতা। রাহুলের মৃত্যুতে অনুরাগীরাও হতবাক। সবার মনেই প্রশ্ন, কী করে এমন ঘটনা ঘটল?
ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, নৌকায় শুটিং করতে গিয়ে পানিতে পড়ে গিয়েছিলেন রাহুল আর তার সহঅভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। শ্বেতাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রাহুল তলিয়ে যান। দ্রুত টেকনিশিয়ানরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে বাঁচানো যায়নি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার নায়ককে।
শুটিংয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে তোলপাড়। মাত্র ৪২ বছরে প্রতিভাবান এই অভিনেতার মৃত্যু অনেককেই বাকরুদ্ধ করেছে। মৃত্যুর কারণ ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা৷ অনেকে শুটিংয়ে সুরক্ষার অভাবকে দায়ী করছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন কোনোভাবে সমুদ্রে নেমেছিলেন রাহুল এবং তলিয়ে যান!
ওই সূত্র আরও জানায়, ওড়িশার তালসারি সংলগ্ন অঞ্চলের সমুদ্রে বোটে চেপে ঘোরার সময় বোট থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। সেখান থেকে উদ্ধার করার সময়ও রাহুল বেঁচে ছিলেন বলেই ধারণা করা হয়৷ দ্রুত ওড়িশার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় রাহুলকে৷ সেখানেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা৷
শেষ খবরে জানা যায়, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃতদেহ দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়েছে। পুলিশ এই মৃত্যুকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে মামলা রুজু করেছে। আর মরদেহ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অভিনয় যাত্রা শুরু করেন বাবার সঙ্গে রাজ দর্শন নামের একটি নাটকে বিজয়গড় থিয়েটার দলের মাধ্যমে। এরপর থেকে তিনি প্রায় ৪৫০টিরও বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন।