বিপ্লবের পর জনগণের বড় অংশ আশা করেছিল, একটি জনমতের সরকার গঠিত হবে, যেখানে জুলাই আন্দোলনের প্রতিনিধিত্বকারী শক্তিগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকবে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, বিএনপি এ ধরনের জনমতের সরকার গঠনের প্রশ্নে দৃশ্যত অনীহা প্রকাশ করেছে এবং নানা কৌশলগত বাধা সৃষ্টি করেছে। তাদের যুক্তি ছিল স্থিতিশীলতা, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং দ্রুত নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা। কিন্তু বিপ্লবী জনমতের একটি বড় অংশ এই অবস্থানকে পুরনো ক্ষমতা-কাঠামোর সাথে আপসের প্রবণতা হিসেবে দেখছে। তারা একটি স্পষ্ট সঙ্কেত পেয়ে যায় যে, বিএনপি বিপ্লবকে ব্যবহার করতে চায়, কিন্তু বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নে আগ্রহী নয়
জুলাই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অবদমন এবং রাজনৈতিক অসহায়ত্বের ধারায় জমে ওঠা ক্ষোভের অনিবার্য বিস্ফোরণ। প্রায় দেড় দশক ধরে ভোটাধিকার হরণ, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস, রাষ্ট্রযন্ত্রের দলীয়করণ, গুম-খুন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং বিদেশী প্রভাবের ছায়ায় রাষ্ট্র পরিচালনার ফলে জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যকার আস্থা ভেঙে পড়ে। জুলাই বিপ্লব সেই ভাঙনের প্রকাশ্য ঘোষণা- যা কেবল একটি সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়নি; বরং রাষ্ট্রের চরিত্র, ক্ষমতার বৈধতা এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন সামনে এনেছে। এই রাষ্ট্র আসলে কার, রাষ্ট্রের ওপর কার নৈতিক অধিকার রয়েছে এবং জনগণ কেমন রাষ্ট্র দেখতে চায়, এই প্রশ্নগুলোই জুলাই বিপ্লবের অন্তর্গত রাজনৈতিক উত্তরাধিকার।
এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন নিছক একটি সাংবিধানিক ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়। এটি ক্রমেই রূপ নিচ্ছে জুলাই বিপ্লবের রাজনৈতিক রায় ঘোষণার এক ঐতিহাসিক মঞ্চে। ভোটাধিকার-বঞ্চিত তরুণ প্রজন্মের কাছে এই নির্বাচন শুধুই সরকার পরিবর্তনের সুযোগ নয়; এটি একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি, একটি শাসনদর্শন বা রাষ্ট্রচিন্তার পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার সুযোগ। জুলাই বিপ্লব রাজনীতিতে মৌলিক বিভাজন তৈরি করেছে- একদিকে আদর্শ, নৈতিকতা, ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান এবং রাষ্ট্র সংস্কারের আকাক্সক্ষা; অন্যদিকে প্রশাসনিক শক্তি, পুরনো ক্ষমতাকাঠামো এবং বাস্তব রাজনীতির হিসাব। এই দ্ব›দ্বই ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রকৃত চালিকাশক্তি।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ছিল না। এটি ছিল একটি বিস্তৃত সামাজিক প্রতিরোধ। তবে মাঠপর্যায়ে আন্দোলন সংগঠিত ও সচল রাখতে যেসব রাজনৈতিক শক্তির উপস্থিতি বাস্তব ও দৃশ্যমান ছিল, তারা মূলত জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, এবি পার্টি, এলডিপি, এনসিপি এবং বিভিন্ন ইসলামী ও বিকল্প রাজনৈতিক ধারার সংগঠন। ছাত্র, যুব ও পেশাজীবী পর্যায়ে এসব শক্তির ধারাবাহিক উপস্থিতি আন্দোলনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করেছে।
জুলাই বিপ্লব একটি স্পষ্ট প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, শুধু ক্ষমতার রদবদল নয়; বরং রাষ্ট্রের ভেতরে গেঁথে থাকা দমনমূলক কাঠামোর ভাঙন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান এবং সত্যিকারের গণমতের সরকার গঠন। কিন্তু বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে এই প্রত্যাশা ও বাস্তব রাজনৈতিক আচরণের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেটিই ধীরে ধীরে ২০২৬ সালের নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ফ্যাক্টরে পরিণত হচ্ছে।
বিপ্লবের পর জনগণের বড় অংশ আশা করেছিল, একটি জনমতের সরকার গঠিত হবে, যেখানে জুলাই আন্দোলনের প্রতিনিধিত্বকারী শক্তিগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকবে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, বিএনপি এ ধরনের জনমতের সরকার গঠনের প্রশ্নে দৃশ্যত অনীহা প্রকাশ করেছে এবং নানা কৌশলগত বাধা সৃষ্টি করেছে। তাদের যুক্তি ছিল স্থিতিশীলতা, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং দ্রুত নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা। কিন্তু বিপ্লবী জনমতের একটি বড় অংশ এই অবস্থানকে পুরনো ক্ষমতা-কাঠামোর সাথে আপসের প্রবণতা হিসেবে দেখছে। তারা একটি স্পষ্ট সঙ্কেত পেয়ে যায় যে, বিএনপি বিপ্লবকে ব্যবহার করতে চায়, কিন্তু বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নে আগ্রহী নয়।
এই সন্দেহ আরো তীব্র হয় পতিত সরকারের নিয়োজিত প্রেসিডেন্টকে অপসারণের প্রশ্নে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, যেসব সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতীক ফ্যাসিবাদী শাসনের বৈধতা বহন করেছে, সেগুলো দ্রুত সরিয়ে দেয়া হবে। জামায়াত ও তাদের মিত্র জোট এই অপসারণের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিল এবং এটিকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি ন্যূনতম শর্ত হিসেবে বিবেচনা করেছে। কিন্তু বিএনপি প্রেসিডেন্টকে অপসারণের বিপক্ষে প্রক্রিয়াগত জটিলতা ও রাজনৈতিক সমঝোতার যুক্তি সামনে আনে। রাজনৈতিক শক্তির অবস্থানগত এই পার্থক্য সাধারণ ভোটারের চোখে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে যারা মনে করে বিপ্লব মানেই পুরনো প্রতীক ও রক্ষাকবচ ভেঙে ফেলা।
একই ধরনের বিতর্ক রয়েছে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে। জুলাই বিপ্লবের সময় এবং তার আগে সেনাবাহিনীর কিছু অংশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ছিল। বিশেষ করে গুম, ক্রসফায়ার, আয়নাঘর এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের সাথে সেনাবাহিনীর কিছু পদস্থ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ বহুল আলোচিত। বিপ্লবের পর বিতর্কিত নেতৃত্ব ও কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনীতে জবাবদিহি ও সংস্কার নিশ্চিত করার পক্ষে জোরালো জনমত তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রেও বিএনপি ‘প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা’ ও ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র যুক্তি তুলে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলে অভিযোগ আছে। তারা পরিবর্তনের প্রশ্নে নীরব বা দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থান নিয়েছে।
বিপরীতে জামায়াত ও তাদের মিত্র রাজনৈতিক শক্তিগুলো প্রকাশ্যেই দাবি করেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের অপসারণ ও বিচারের আওতায় আনা ছাড়া ন্যায়বিচার সম্পূর্ণ হতে পারে না। এ অবস্থান তরুণ প্রজন্মের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ তাদের রাজনৈতিক চেতনার বড় অংশ গড়ে উঠেছে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে।
বিএনপির ওপর আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো, রাষ্ট্রের গভীর কাঠামোর সাথে সঙ্ঘাতে না গিয়ে সমঝোতার রাজনীতি বেছে নেয়া। তরুণ ভোটারদের বড় অংশ মনে করছে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সেনাবাহিনী, প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সাথে আপস করে একটি ‘নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র’ কায়েম করবে, যেখানে ভোট থাকবে, কিন্তু প্রকৃত জবাবদিহি থাকবে না। এই ধারণা আরো শক্তিশালী হয়েছে প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি অংশের তারেক রহমানের প্রতি অতিরিক্ত সহযোগিতামূলক আচরণ দেখে। অনেকেই এটিকে ভবিষ্যৎ ক্ষমতা বিন্যাসের একটি পূর্বলিখিত চিত্র হিসেবে দেখছে।
এই অবস্থান সরাসরি বিপরীতে দাঁড় করাচ্ছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটকে, যারা একটি আপসহীন সংস্কারপন্থী শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরছে। জনমতের সরকার গঠন, পতিত শাসনের সাংবিধানিক প্রতীক অপসারণ, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা- এই প্রতিটি প্রশ্নে তাদের অবস্থান স্পষ্ট ও একমুখী। ফলে ভোটের হিসাবেও এই দুই রাজনৈতিক ধারার পার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
আসন্ন নির্বাচনে এই বিষয়গুলোর প্রভাব নির্ভর করবে ভোটাররা কোন বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেয় তার ওপর। যারা স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিত রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে পরিবর্তন চায়, তাদের একটি অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকতে পারে। কিন্তু যারা জুলাই বিপ্লবকে একটি অসম্পূর্ণ বিপ্লব মনে করে এবং বিশ্বাস করে যে- পুরনো রাষ্ট্রযন্ত্র ভাঙা ছাড়া প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়, তাদের বড় অংশ জামায়াত ও বিকল্প জোটের দিকে ঝুঁকছে।
জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ভূমিকা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাংগঠনিক ও কৌশলগত নেতৃত্বের প্রশ্নে তুলনামূলকভাবে গৌণ হয়ে পড়ে। কিন্তু বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে দৃশ্যপট নাটকীয়ভাবে বদলে যায়, বিশেষ করে তারেক রহমানের সক্রিয় রাজনৈতিক উপস্থিতি ও প্রত্যাবর্তন ঘিরে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নিরাপত্তা কাঠামোর একটি অংশ তারেক রহমানের প্রতি যে মাত্রাতিরিক্ত আনুক‚ল্য দেখাচ্ছে, তা জনমনে দ্বৈত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেক ভোটার মনে করছেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা ও নিপীড়নের শিকার একজন রাজনৈতিক নেতাকে রাষ্ট্রযন্ত্রের এই সহযোগিতা ইতিবাচক। অন্যদিকে, বিশেষ করে তরুণ ও বিপ্লবী ভোটারদের অনেকে এটিকে উৎসাহের আতিসহ্য ধরে নিয়ে সন্দিহান। তাদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, গত দেড় দশক ধরে যে প্রশাসন ভোট ও নাগরিক অধিকার হরণে ভূমিকা রেখেছে, সেই একই প্রশাসনের হঠাৎ করে বিশেষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতি কোনো অদৃশ্য সমঝোতার ইঙ্গিত বহন করতে পারে। এই ধারণা থেকে একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। কেউ কেউ বলছে, রাষ্ট্রযন্ত্র যদি আগেভাগেই কাউকে ‘ক্ষমতার উত্তরাধিকারী’ হিসেবে তুলে ধরে, তাহলে ব্যালট বাক্সে তার জবাব দেয়াই প্রকৃত বিপ্লবী অবস্থান।
এই সন্দেহ আরো গভীর হয়েছে ভারতের সাথে তারেক রহমানের সম্ভাব্য সম্পর্কের গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে। ভবিষ্যৎ ক্ষমতা বিন্যাসের বিনিময়ে ভারতের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় বিএনপি কিছু নীরব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এমন গুঞ্জন তরুণ ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলছে। জুলাই বিপ্লবের অন্তর্নিহিত চেতনা ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও আত্মমর্যাদাবোধ। সেই প্রেক্ষাপটে যেকোনো রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে ‘ভারতের দোসর’ তকমা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ ও মধ্যম সারির নেতা সম্পর্কে এমন প্রচারণা দলটির ভাবমর্যাদার ক্ষতি করছে।।
সন্দেহ ও অবিশ্বাস আরো তীব্র হয়েছে শহীদ শরিফ হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। তার মৃত্যুর ঘটনায় বিএনপির ভূমিকা বা নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এক দিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এখনো শক্তিশালী প্রতিদ্ব›দ্বী হিসেবে থেকে যাচ্ছে, মূলত তাদের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক শক্তি ও মিডিয়ায় দৃশ্যমান উপস্থিতির কারণে। অন্য দিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটকে দুর্নীতিমুক্ত মনে করা, কঠোর দলীয় শৃঙ্খলা, ভারতের সাথে আপসের অভিযোগ না থাকা এবং জুলাই বিপ্লবের সময় মাঠে বাস্তব উপস্থিতি বিবেচ্য। তরুণ প্রজন্মসহ অনেক ভোটারই মনে করছে, অতীতে বারবার ক্ষমতায় গিয়ে দুর্নীতিতে জড়িয়েছে বা বিদেশী প্রভাবের সাথে আপস করেছে এমন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর আবার ক্ষমতায় আসা জুলাই বিপ্লবের আদর্শের বিপরীত।
একই সাথে জামায়াত-জোটের সীমিত প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, দুর্বল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তব দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে জামায়াত নেতাদের সাথে বিদেশী মিশনের যোগাযোগ এবং অতি সম্প্রতি পলিসি সামিটের মধ্য দিয়ে জামায়াত জনগণের ধারণা অনেকটাই পাল্টাতে পেরেছে। এছাড়া, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে এদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের ইস্যুটি তাদের বিরোধী শক্তি তথা ভারতের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি এখন জনমনে অনেকটাই পরিষ্কার।
২০২৬ সালের নির্বাচন কোনো একমুখী রায়ের দিকে এগোচ্ছে না। এটি একাধিক টানাপড়েন, সন্দেহ, প্রত্যাশা ও প্রতিক্রিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল রাজনৈতিক মুহূর্ত। জনগণের ধারণা, জামায়াত জোটের জয়লাভ করতে পারা এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
প্রশ্ন শুধু কে জিতবে তা নয়, প্রশ্ন হলো, জনগণ কি সত্যিই গুম, ক্রসফায়ার, আয়নাঘর ও বিদেশী আধিপত্যের কালো অধ্যায় পেছনে ফেলে নতুনভাবে একটি ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে প্রস্তুত; নাকি পরিচিত শক্তির হাত ধরেই আবার নতুন নামে পুরনো ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটবে!
লেখক : অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট