Image description

দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মোট ঋণের বড় অংশ এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। ব্যাংকটির প্রায় ৯৭ হাজার কোটি টাকার ঋণের মধ্যে ৭২ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকাই খেলাপি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে জনতা ব্যাংকের মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭২ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭৪ দশমিক ০৭ শতাংশ।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির মোট ঋণস্থিতি ছিল ৯৬ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। সে সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭৩ দশমিক ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, জনতা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের বড় অংশই আটকে আছে অল্প কয়েকটি বড় গ্রুপের কাছে। ব্যাংকটির শীর্ষ ২০টি গ্রুপের কাছেই বকেয়া রয়েছে ৫২ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা, যা মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৭২ শতাংশ।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতিও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় জনতা ব্যাংকে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে। এর সুবিধাভোগী ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যবসায়ী। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব ব্যবসায়ীর অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, আবার কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায় কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে।