Image description
আগে থেকে চাপে থাকা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা। কিছু মাস আগেও সবচেয়ে স্বস্তির জায়গা ছিল বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ও ডলারের দামের স্থিতিশীলতা। এবার সেখানেও শুরু হয়েছে অস্বস্তি।
 
চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১১.৮৫ বিলিয়ন ডলার, অন্যদিকে আমদানি ব্যয় ১৫ শতাংশ বেড়ে ১৯.৩৩ বিলিয়ন ডলার। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭.৪৮ বিলিয়ন ডলার।
 
আমদানি ব্যয় বাড়ার পেছনে বড় কারণ জ্বালানি বাবদ খরচ বৃদ্ধি। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এই ব্যয় ছিল ৪.২২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে।
 
এ বিষয়ে বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ‘আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি পরিবহনের শিপিং খরচ ও বিমা ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। যেহেতু আমরা জ্বালানি কিছুটা বেশি আমদানি করছি এবং একই সঙ্গে জ্বালানির দামও বেশি, তাই এ খাতে আমাদের ব্যয় বেড়েছে।’
 
বাণিজ্য ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। জুলাই-সেপ্টেম্বরে ৮.৫৯ বিলিয়ন ডলার আসলেও তা দিয়ে এই ঘাটতি মেটেনি। কারণ ওই তিন মাসে বাংলাদেশের নিট বিদেশি সহায়তা ও নতুন ঋণপ্রাপ্তি কমেছে। এর প্রভাবে বৈদেশিক লেনদেনের সার্বিক ভারসাম্যে ঘাটতি ছিল ১.১৬ বিলিয়ন ডলার। যা পূরণ হয়েছে রিজার্ভ থেকে। এতে রিজার্ভ কমে বেড়েছে ডলারের দাম, যা এখন ১২৪.৩৪ টাকা।
 
ড. মাহফুজ কবীর আরও বলেন, ‘মাঝখানে আমরা দেখেছিলাম, ডলারের বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হচ্ছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, খোলা বাজারে প্রতি ডলার ১২৮ থেকে ১২৯ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। এর অর্থ হলো, বাজারে ডলারের সরবরাহ কম। আমাদের রপ্তানি আয় মোটামুটি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে রেমিট্যান্স প্রবাহের ক্ষেত্রে কিছুটা ভাটা দেখা যাচ্ছে। এর আগে আমরা রেমিট্যান্স প্রবাহে বারবার রেকর্ড হতে দেখেছি। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং সেখানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো শেষ না হওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা কমে গেছে।’
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে রিজার্ভ ছিল ৩১.১৯ বিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে ৫ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। তবে ৫ নভেম্বর এটি আরও কমে হয়েছে ২৯.৯৮ বিলিয়ন ডলার।