Image description

হিমাগারে আলু, অথচ ক্রেতা নেই। পাইকারিতে কমতে কমতে কেজিপ্রতি দাম নেমেছে ১১ থেকে ১২ টাকায়। কিন্তু শুধু হিমাগারে সংরক্ষণ করতেই খরচ হয়েছে ৯ টাকার বেশি। উৎপাদন ও সংরক্ষণ মিলিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ব্যয় পড়েছে ২০ টাকারও বেশি। ফলে আলু বিক্রি করলেও কেজিপ্রতি বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় লোকসান মেনে বিক্রি করতে চাইলেও মিলছে না ক্রেতা। এ অবস্থায় কুড়িগ্রাম ও রাজারহাট উপজেলার ছয়টি হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু অবিক্রীত পড়ে থাকার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হিমাগারে আলু সংরক্ষণকারী রাজারহাটের কৃষক আব্দুল্লাহ বলেন, লাভের আশায় আলু হিমাগারে রেখেছিলাম। এখন কেজি ১১-১২ টাকায় বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠছে না। হিমাগার ভাড়া ও অন্যান্য খরচ যোগ করে লোকসান আরও বাড়ছে। রাজারহাটের চাষি রোকন মিয়া বলেন, কৃষক আলু উৎপাদন করতে ঋণ করেছেন, হিমাগারে রাখতেও খরচ হয়েছে। এখন কম দামে বিক্রি করলে ঋণের টাকা পরিশোধ করাই কঠিন হবে। 

 

কুড়িগ্রাম সদরের বাবর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শরিফ আল মাসুদ জানান, চলতি বছর তাদের হিমাগারে ১১ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছয় হাজার টন বিক্রি হয়েছে। এখনও পাঁচ হাজার টন অবিক্রীত রয়েছে। নতুন মৌসুম শুরুর আগে বাকি আলু আগামী দুই মাসের মধ্যে বিক্রি করা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। রাজারহাটের এ হক হিমাগার, রাবেয়া কোল্ড স্টোরেজ এবং কুড়িগ্রাম সদরের মোস্তফা কোল্ড স্টোরেজ থেকেও একই রকম তথ্য পাওয়া যায়।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে আলু চাষ করেন। একই সময়ে বেশি উৎপাদন হওয়ায় সরবরাহ বেড়ে দাম কমে যায়। বর্তমানে হিমাগারে থাকা আলুর সঠিক ব্যবস্থাপনা করা গেলে বাজারদর বাড়তে পারে। এতে কৃষকদের ভোগান্তি কমবে এবং হিমাগারে থাকা আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না।