স্বাভাবিক প্রসবের আশায় রাজধানীর ধানমন্ডির গ্রেস হাসপাতাল লিমিটেডে ভর্তি হয়েছিলেন সনিয়া আক্তার। চিকিৎসক সংযুক্ত সাহার সঙ্গে ৫০ হাজার টাকায় প্রসব করানোর চুক্তিও হয়েছিল। কথা ছিল, চিকিৎসকের ফি ৩০ হাজার এবং হাসপাতালের খরচ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু সন্তান জন্মের পর পরিবারের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৯৩ টাকার বিল। পুরো টাকা দিতে না পারায় হাসপাতাল ছাড়তে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়েন রোগী ও স্বজনরা।
আগামীর সময়ের অনুসন্ধানে সনিয়ার চিকিৎসার বিল, স্বজনদের অভিযোগ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। ৫০ হাজারের চুক্তির পর বিল কীভাবে দেড় লাখ টাকা ছাড়াল? অস্ত্রোপচারে ৩০৯টি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর জন্য কেন খরচ দেখানো হলো ২৫ হাজার ১২৭ টাকা? প্যাথলজি ও রক্তের খরচের হিসাবেইবা দুরকম অঙ্ক কেন?
স্বজনদের অভিযোগ, এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তারা পাননি। তাদের আরও দাবি, স্বাভাবিক প্রসবের আশায় হাসপাতালে নেওয়া সনিয়াকে সিজার করানো হয়। অস্ত্রোপচারের পর পেটে সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় বর্তমানে তিনি শনির আখড়ার ঢাকা প্যারামাউন্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্বজনদের ভাষ্য, তার অবস্থা সংকটাপন্ন।
৫০ হাজারের চুক্তি, বিল ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৯৩ টাকা
সনিয়া গ্রেস হাসপাতালের ৫০৪ নম্বর কেবিনে ভর্তি ছিলেন। তার অভিযোগ, স্বাভাবিক প্রসবের আশায় হাসপাতালে গেলেও পরে তাকে অস্ত্রোপচারের পরিস্থিতিতে নেওয়া হয়। ওষুধ দিয়ে ব্যথা কমিয়ে দেওয়া এবং গর্ভের থলির পানি কেটে বের করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
সনিয়ার বড় বোন ইয়াসমিন আক্তার পপি বললেন, ‘আমাদের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়েছিল; কিন্তু কাজ শেষে অনেক বেশি টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রসবের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের যথাযথভাবে জানানো হয়নি। যে রোগীর নরমাল প্রসব হওয়ার মতো অবস্থা ছিল, তাকে বেশি বিল করার জন্য সিজারে নেওয়া হয়েছে।’
সনিয়ার বিলের কাগজে মোট খরচ দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৯৩ টাকা। এর মধ্যে চিকিৎসক সংযুক্ত সাহার ফি ৫০ হাজার, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী ২৫ হাজার ১২৭, সার্ভিস চার্জ ১ হাজার ৯০০, পোস্ট-অপারেশন চার্জ ৩ হাজার, অপারেশন থিয়েটার চার্জ ৫ হাজার এবং অপারেশন থিয়েটার সার্ভিস চার্জ ১ হাজার ৭৫০ টাকা। প্যাথলজি পরীক্ষার খরচের হিসাবেও অসংগতি রয়েছে। একটি কাগজে ৮ হাজার ১০০, অন্য একটি বিশ্লেষণ ফরমে ৮ হাজার ৪১০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। একই খাতে দুরকম অঙ্কের কারণও স্পষ্ট নয়। স্বজনদের দাবি, তাদের কাছ থেকে ৯২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা নিয়ে হাসপাতাল ছাড়তে গিয়ে তারা সমস্যায় পড়েন। তাদের প্রশ্ন, ৫০ হাজার টাকার চুক্তির বাইরে এত খরচ কীভাবে যুক্ত হলো?
৩০৯টি ওষুধসামগ্রী, খরচ ২৫ হাজার টাকা
সনিয়ার বিলের আরেকটি প্রশ্নবিদ্ধ অংশ ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর হিসাব। ৩০৯টি পণ্যের বিপরীতে খরচ দেখানো হয়েছে ২৫ হাজার ১২৭ টাকা। স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে ওষুধ দেওয়ার আগে তাদের যথাযথভাবে জানানো হয়নি কোন ওষুধ কেন দেওয়া হচ্ছে, কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে এবং দাম কত।
সনিয়ার স্বামী কামরুজ্জামান আকন্দ বলেছেন, হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে যে ওষুধের দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা রাখা হয়েছে, বাইরের ফার্মেসিতে সেটির দাম ১ হাজার ১৫০ টাকা। তার অভিযোগ, ওষুধের বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি; শুধু তালিকা দিয়ে বিল পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।
রক্তের খরচেও প্রশ্ন
রক্তের খরচ নিয়েও আপত্তি তুলেছেন সনিয়ার স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, দুই ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করা হলেও এক ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। অন্য ব্যাগটি তাদের ফেরত দেওয়া হয়নি বা এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে কিছু জানানো হয়নি।
রক্ত সংগ্রহ ও সরবরাহ-সংক্রান্ত খাতে বিল দেখানো হয়েছে ৮ হাজার ৪১০ টাকা। স্বজনদের দাবি, শুধু ক্রসম্যাচিংয়ের জন্য কয়েক হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, অন্য হাসপাতালে এ খরচ প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহরিয়ার জানালেন, তারা উন্নতমানের ব্যাগ ব্যবহার করেন, তাই খরচ বেশি হয়। বিল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা রিপন বললেন, অতিরিক্ত রক্ত থাকলে স্বজনরা চাইলে তা নিয়ে যেতে পারেন।
তবে রক্তের পরীক্ষা, ক্রসম্যাচিং, সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, এর বিস্তারিত হিসাব চান স্বজনরা।
অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণ, সংকটাপন্ন সনিয়া
গ্রেস হাসপাতালে সিজারের পর সনিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। বর্তমানে তিনি ঢাকা প্যারামাউন্ট স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ওই হাসপাতালের পিজিটি চিকিৎসক এম জি ফেরদৌসের ভাষ্য, সনিয়ার পেট ফুলে যায়, পুরো পেটে ব্যথা ও জ্বর দেখা দেয়। পেটের ভেতরে সংক্রমণ থেকে পেরিটোনাইটিস ও সেপসিসের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। অস্ত্রোপচারের সময় বা পরে জীবাণু প্রবেশ, কিংবা ক্ষতস্থানে সংক্রমণ এর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে সংক্রমণের নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে চিকিৎসা নথি, পরীক্ষার ফলাফল ও চিকিৎসাগত মূল্যায়ন প্রয়োজন।
সনিয়ার স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণে তার জীবন সংকটের মুখে পড়েছে। তবে সংক্রমণের সঙ্গে গ্রেস হাসপাতালের চিকিৎসার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীন চিকিৎসাগত মূল্যায়ন ছাড়া নিশ্চিত করা যায় না।
অন্য রোগীদেরও একই ধরনের অভিযোগ
সনিয়ার ঘটনা ছাড়াও গ্রেস হাসপাতালের বিরুদ্ধে বিল ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগ করেছেন অন্য রোগী ও তাদের স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, ভর্তির আগে একধরনের খরচের কথা বলা হলেও সন্তান জন্মের পর সামনে আসে বড় অঙ্কের বিল।
মনিকা মনজুর রাখির বিলের কাগজেও বড় অঙ্কের খরচ দেখা যায়। নথি অনুযায়ী, ২৭০টি ওষুধের বিপরীতে ১৮ হাজার ১৪৬, সার্ভিস চার্জ ২ হাজার ৫৫০ এবং চিকিৎসক-সংক্রান্ত সার্ভিস চার্জ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা দেখানো হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, ভর্তি হওয়ার আগে যে খরচের কথা বলা হয়েছিল, পরে তার সঙ্গে বিলের মিল পাওয়া যায়নি।
১২ ঘণ্টায় বিল ৩১ হাজার, আপত্তির পর ২৫ হাজার
হাসপাতালের ৫০৮ নম্বর লেবার রুমের বিল নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। এক রোগীর স্বজনদের দাবি, প্রথমে বিল লেখা হয়েছিল ৩১ হাজার টাকা। আপত্তি জানানোর পর তা কমিয়ে ২৫ হাজার করা হয়। তাদের প্রশ্ন, প্রথমে বেশি টাকা লেখা হয়েছিল কেন এবং আপত্তির পরইবা তা কমানো হলো কেন?
শিশুর ওজন নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, হাসপাতালে আসার আগে আলট্রাসনোগ্রামে শিশুর ওজন ৩ কেজি ২০০ গ্রাম দেখা গিয়েছিল। পরে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, ওজন ২ কেজি ৮০০ গ্রাম। এ বিষয়ে নার্স শারমিন ভুল হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন বলে দাবি তাদের।
কিশোরগঞ্জ থেকে আসা নুরুন্নবীর অভিযোগ, ৫০ হাজারে চুক্তিতে হাসপাতালে এলেও পরে তাকে ৭১ হাজার টাকার বিল দেওয়া হয়। ক্ষুব্ধ নুরুন্নবী বলেছেন, ‘আমি এই টাকার বেশি এক টাকাও দেব না। আমাকে চুক্তি করে আনা হয়েছে। সিজার করাতে হলে এলাকায় করাতে পারতাম, যেখানে খরচ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এখানে এসে এত টাকা কেন দেব?’
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা আবদুস সালামও সন্তান জন্মের পর বিল নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার আশঙ্কা, চিকিৎসা শেষে বিল হাতে পাওয়ার পর বড় অঙ্কের টাকা দিতে হতে পারে।
রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, ভর্তি হওয়ার আগে খরচের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হলেও পরে একের পর এক নতুন খাত যুক্ত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়াই অতিরিক্ত পরীক্ষা বা চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাদের।
সন্তোষজনক ব্যাখ্যা নেই হাসপাতালের
ওষুধের হিসাব ও বিলের বিষয়ে হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহরিয়ার বলেছেন, ওষুধপত্রের হিসাব সংশ্লিষ্ট কনসালট্যান্টের সঙ্গে সম্পর্কিত। ৩০৯টি ওষুধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বললেন, পরিমাণ কমবেশি হতে পারে। তার ভাষ্য, হাসপাতাল রোগীদের সেবা দিতে চায়। তবে বিল কম নিলে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। ৫০ হাজার টাকার চুক্তির অভিযোগের বিষয়ে শাহরিয়ার জানিয়েছেন, তাদের পক্ষ থেকে যা করার করা হয়েছে, বাকিটা রোগীর স্বজনদের ইচ্ছা।
তবে ওষুধের দাম, ব্যবহৃত চিকিৎসাসামগ্রীর পরিমাণ, প্যাথলজি পরীক্ষার দুরকম অঙ্ক এবং রক্তের খরচের বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিলের তালিকায় খরচের হিসাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন। চিকিৎসক সংযুক্ত সাহাকে ঘিরে অতীতেও বিতর্কের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে রোগীর মৃত্যুতে অবহেলা এবং ভুয়া অধ্যাপকের নাম ব্যবহারের অভিযোগে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন বলে জানা গেছে। বর্তমান অভিযোগের বিষয়ে সংযুক্ত সাহা বলেছেন, ‘আমি মাস্তানি চিকিৎসা করি নাই। আপনাদের সমস্যা হলে আগে বলতেন।’ তবে সনিয়ার ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত, চুক্তির বাইরে চিকিৎসকের ফি ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ার কারণ এবং অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণের অভিযোগ সম্পর্কে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গবেষণায় সিজার ও ব্যয়ের চাপের চিত্র
বাংলাদেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি সন্তান জন্মদানের খরচ মেটাতে পরিবারের আর্থিক সংকটও বাড়ছে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত কয়েকটি গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে।
‘ফ্রম মেডিকেল নেসেসিটি টু প্রাইভেট-সেক্টর ডমিন্যান্স: আ টু-ডেকেড ইভোলিউশন অব সিজারিয়ান সেকশন ডিটারমিন্যান্টস ইন বাংলাদেশ’ (২০০৪-২০২২) শীর্ষক গবেষণাটি ৯ মে সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপে ২৬ হাজার ৮৪৫ নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০০৪-০৭ সময়ে দেশে সিজারের হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৮-২২ সময়ে তা বেড়ে ৩৯ শতাংশে পৌঁছায়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রসবের মধ্যে সিজারের হার প্রায় ৫৫ থেকে বেড়ে ৮৪ শতাংশ হয়।
আরেক গবেষণায় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হওয়া প্রসবের মধ্যে সিজারের হার ২০১৪ সালের ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ৬৯ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছানোর তথ্য রয়েছে। একই সময়ে প্রসবের খরচ মেটাতে ঋণ নেওয়া বা সম্পদ বিক্রি করতে বাধ্য হওয়া পরিবারের হার ১০ দশমিক ৮ থেকে বেড়ে ২১ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। ২০২২ সালে মোট সিজারের প্রায় ৮৫ শতাংশ হয়েছে বেসরকারি হাসপাতালে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় সেখানে সিজারের হার ছিল ৬ দশমিক ৭ গুণ। স্বাভাবিক প্রসবের তুলনায় সিজারের ক্ষেত্রে আর্থিক সংকটে পড়ার হার ছিল ৪ দশমিক ১৫ গুণ।
‘অাদার ফ্যাক্টরস অ্যাসোসিয়েটেড উইথ সিজারিয়ান সেকশন ফর ফার্স্ট বার্থস ইন বাংলাদেশ ইউজিং ডেমোগ্রাফিক হেলথ সার্ভে ডেটা ২০২২’ শীর্ষক গবেষণাটি গত ২৮ আগস্ট ডিসকভার পাবলিক হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়া ১ হাজার ৩৭১ জন নারীর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাদের ৭১ দশমিক ৩ শতাংশের সন্তান সিজারের মাধ্যমে জন্ম নেয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রথম সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে সিজারের হার ছিল ৮ দশমিক ১৪ গুণ। গবেষণাগুলোতে বেসরকারি হাসপাতালের ওপর নজরদারি জোরদার, অপ্রয়োজনীয় সিজার কমানো, চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পরিবারকে আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া এবং অস্ত্রোপচারের ক্লিনিক্যাল অডিটের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি মিডওয়াইফারদের নেতৃত্বে প্রসবসেবা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিরাপদ প্রসবসেবা নিশ্চিত করার তাগিদ
রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মুশতাক হোসেন বলেছেন, দেশে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার বাড়লেও মাতৃমৃত্যু প্রত্যাশিতভাবে কমেনি।
তার অভিযোগ, নিরাপদ প্রসবের উদ্যোগকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে কিছু বেসরকারি হাসপাতাল অপ্রয়োজনীয় সিজারের মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফা করছে। এতে অস্ত্রোপচারে জটিলতা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং নবজাতকের শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তিনি বললেন, উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত মা ও শিশুর প্রয়োজনীয় সেবা সরকারি উদ্যোগে বিনামূল্যে সম্প্রসারণ করা গেলে অপ্রয়োজনীয় সিজার কমানো এবং মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাসে ভূমিকা রাখা সম্ভব।