Image description

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন গত ৪ জুন দায়িত্ব নেওয়ার পর শেয়ারবাজারে কিছুটা গতি ফিরেছিল। তবে সেই ইতিবাচক ধারা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

 

গত এক মাস ধরে ধারাবাহিক দরপতনে বাজারে লোকসান গুনছেন বিনিয়োগকারীরা। এরই মধ্যে বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও থেকে কমে গেছে ৫ হাজার ৪২৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

 

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৯৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮ কোটি ২ লাখ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহে বাজার মূলধন কমেছে ৫ হাজার ৪২৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ০.৭৮ শতাংশ কম।

 

মাসুদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৪৭৫ পয়েন্ট থেকে বেড়ে গত ১৫ জুলাই ৫ হাজার ৯২৬ পয়েন্টে উঠেছিল। এরপর বাজারে উত্থানের গতি থেমে যায়। কিছুদিন সূচকে উত্থান-পতন থাকলেও গত ১১ আগস্টের পর থেকে টানা নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে বাজার। এতে ডিএসইএক্স নেমে এসেছে ৫ হাজার ৫১৫ পয়েন্টে।

 

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ২ হাজার ৭৭১ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ৪৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ২৭২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বা প্রায় ৯ শতাংশ।

সূচকের পাশাপাশি অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদরও কমেছে। এক সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪৭ পয়েন্ট বা ৩ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫১৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস কমেছে ৩৩ পয়েন্ট বা ৩ শতাংশ। সপ্তাহ শেষে সূচকটি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৫ পয়েন্টে।

 

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৬টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে মাত্র ৬০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে, যা মোট প্রতিষ্ঠানের ১৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিপরীতে ৩১০টি প্রতিষ্ঠানের বা ৮০ দশমিক ৩১ শতাংশের শেয়ারদর কমেছে। আর ১৬টি প্রতিষ্ঠানের বা ৪ দশমিক ১৪ শতাংশের দর অপরিবর্তিত ছিল।

 

অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র দেখা গেছে। বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইতে মোট ১৫৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৩০৬ পয়েন্ট বা ২ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৮৬৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

 

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩০৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮টি প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে, ২২৭টির দর কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

 

ফলে দুই শেয়ারবাজারেই বিদায়ী সপ্তাহে দরপতনের দাপট ছিল স্পষ্ট। বিশেষ করে ডিএসইতে ৮০ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের লোকসান আরও বেড়েছে।