Image description

বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদে দুই বছরের সময়সীমা তুলে নিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে কোনো ব্যাংকের পর্ষদ বাতিলের আদেশ সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত বহাল রাখার যে আইনি সীমা ছিল, ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে তা আর সাধারণভাবে প্রযোজ্য হবে না।

 

এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন ২০২৪ সালের আগস্টে পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর দুই বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে চলছে দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ।

সোমবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদের স্বাক্ষরে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(২) ধারায় উল্লেখিত ‘পরিচালনা পর্ষদ বাতিল আদেশের মেয়াদ সংক্রান্ত বিধান সকল ব্যাংক-কোম্পানীর ক্ষেত্রে, সাধারণভাবে প্রযোজ্য হবে না।’

এই প্রজ্ঞাপনের ফলে পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা ব্যক্তি বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে দুই বছরের সীমা আর বাধা হয়ে থাকছে না।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকসহ ১২টি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

ইসলামী ব্যাংকের পাশাপাশি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ করে ব্যাংকগুলো পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে এসব ব্যাংকের কয়েকটির মালিকানা ও পরিচালনা কাঠামোয় আবার পরিবর্তন এসেছে। ন্যাশনাল ব্যাংকে শেয়ারধারক পরিচালকদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রিমিয়ার ব্যাংকসহ কয়েকটির পর্ষদ পুনর্গঠন করে উদ্যোক্তা ও শেয়ারধারক পরিচালকদের মাধ্যমে পরিচালনা করা হচ্ছে।

এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে গঠন করা হয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। এরই মধ্যে তিনটি ব্যাংকের দায়িত্ব সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীনে গেছে এবং বাকি দুটির হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে।

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণও আবার উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য ব্যাংকগুলোর পরিচালনা কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও ২০২৪ সালের আগস্টে পর্ষদ বাতিলের পর ইসলামী ব্যাংকে এখনো উদ্যোক্তা বা শেয়ারধারক পরিচালক ফেরেননি।

 

গত জুন পর্যন্ত স্বতন্ত্র পরিচালকদের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক পরিচালনা করে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকটিতে কোনো পরিচালনা পর্ষদ নেই। পর্ষদের সব ক্ষমতা প্রয়োগ করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা।

বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকে কোনো স্বতন্ত্র পরিচালকও নেই। ব্যাংকটির সর্বশেষ অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের ক্ষেত্রেও পর্ষদের পরিবর্তে বাংলাদেশ ব্যাংক-নিযুক্ত কর্মকর্তা ও ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দায়িত্ব পালন করেন।

এ অবস্থায় ২০২৪ সালের আগস্টে পর্ষদ বাতিলের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার সময়েই ৪৭(২) ধারার সময়সীমা সাধারণভাবে অপ্রযোজ্য ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ইসলামী ব্যাংকসহ কোনো ব্যাংকের বাতিল করা পর্ষদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ দুই বছরের মধ্যে শেষ করার আইনি বাধ্যবাধকতা আর থাকছে না।