একসময় চকচকে ফরমাল জুতাই ছিল ব্যক্তিত্ব ও পেশাদারত্বের পরিচায়ক। বদলে যাওয়া জীবনযাপন, কর্মসংস্কৃতি ও ফ্যাশন ভাবনায় সেই জায়গা দ্রুত দখল করছে কেডস ও স্নিকার্স। আরামের সঙ্গে আধুনিকতার সমন্বয়ে নীরবে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের পায়ের ফ্যাশন, তৈরি হচ্ছে নতুন এক বড় বাজার।
আরাম, আধুনিকতা, স্টাইল ও ক্রয়সামর্থ্য- এসবের সমন্বয়ে কেডস ও স্নিকার্স এখন হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম জনপ্রিয় অনুষঙ্গ। গ্রাম কিংবা শহর, অফিসপাড়া কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস- সবখানেই বদলেছে পায়ের ফ্যাশন।
বাংলাদেশে এক দশক আগেও কেডসকে মূলত তরুণদের খেলাধুলা বা ক্যাজুয়াল ব্যবহারের জুতা হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে মানুষের জীবনযাপন, রুচি ও ফ্যাশন ভাবনা। এখন নারী-পুরুষ, শিশু থেকে বয়স্ক- সব বয়সী মানুষের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে কেডস।
কেডসের জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে বেড়েছে/জাগো নিউজ
আগে নারীদের মধ্যে কেডস কিংবা স্নিকার্স পরার প্রবণতা ছিল খুবই কম। এখন যে কোনো ধরনের পোশাকের সঙ্গে নারীরা কেডস পায়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যেও এখন কেডস পরার প্রবণতা প্রবল। জগিং কিংবা দৈনন্দিন কাজে নারী ও বয়স্করা সমানতালে পরছেন।
ব্র্যান্ডশপ ও বিক্রেতাদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি ১০ জন নারী-পুরুষের মধ্যে কমপক্ষে তিনজন নিয়মিত কেডস বা স্নিকার্স ব্যবহার করছেন।
এখন পুরুষ-নারীর মধ্যে ফ্যাশনের ক্ষেত্রে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। মানুষ এখন লিঙ্গভিত্তিক ধারণার চেয়ে নিজের পছন্দ ও রুচি অনুযায়ী জুতা বেছে নিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।-একটি সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ফাতেমা মমতাজ
একটি সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ফাতেমা মমতাজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘সত্যি বলতে, অন্য অনেক ধরনের জুতার তুলনায় স্নিকার্স ও কেডস অনেক বেশি আরামদায়ক এবং স্টাইলিশ। এখন পুরুষ-নারীর মধ্যে ফ্যাশনের ক্ষেত্রে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। মানুষ এখন লিঙ্গভিত্তিক ধারণার চেয়ে নিজের পছন্দ ও রুচি অনুযায়ী জুতা বেছে নিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।’
আগে অনেকেই কেডস কিংবা স্নিকার্স ধরনের জুতা পরতে সংকোচ বোধ করতেন, কারণ সমাজে এর গ্রহণযোগ্যতা কম ছিল বলে মনে করেন এই নারী।
শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই নয়, পরিবর্তন এসেছে করপোরেট সংস্কৃতিতেও। আগে যেখানে অফিসে ফরমাল জুতা ছিল অলিখিত নিয়ম, সেখানে এখন অনেক প্রতিষ্ঠানেই স্মার্ট ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গে কেডস পরা স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করা হচ্ছে। কারণ, কর্মক্ষেত্রেও বাড়ছে আরাম ও গতিশীলতার গুরুত্ব।
ফুটপাতেও মিলছে চীন থেকে আমদানি করা কেডস-স্নিকার্স
একটি করপোরেট কোম্পানির কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘একজন করপোরেট চাকরিজীবী হিসেবে এখন আমি নিজের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করার স্বাধীনতা উপভোগ করি। আমার পছন্দ হলো জিন্সের সঙ্গে কেডস পরা। কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই অফিসে এই পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে কাজ করতে পারি।’
বাজার পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৩৭ দশমিক ৮ কোটি জোড়া জুতা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এর বিপরীতে, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বার্ষিক জুতার চাহিদা আনুমানিক ২০-২৫ কোটি জোড়া। বাজারের আকার ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
সাধারণত বাংলাদেশে জুতা, কেডস ও স্নিকার্সের আলাদা চাহিদার সরকারি কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয় না। তবে, শিল্পের মালিক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, স্যান্ডেল ও স্লিপারের চাহিদা সর্বাধিক, যা মোট বাজারের প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ বা বছরে ৬-৯ কোটি জোড়া। লেদার ও ফরমাল জুতা এবং ক্যাজুয়াল জুতার চাহিদা প্রতিটি ২০-২৫ শতাংশ বা ৪-৬ কোটি জোড়া।
স্নিকার্স, কেডস ও স্পোর্টস জুতার অংশ ১৫-২০ শতাংশ, যার বার্ষিক চাহিদা ৩-৫ কোটি জোড়া এবং স্কুল জুতার অংশ ১০-১৫ শতাংশ বা ২-৩ দশমিক ৫ কোটি জোড়া।
চাহিদা বাড়ায় ব্র্যান্ডগুলোও আনছে নিত্যনতুন ডিজাইন
আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড বাটার বাংলাদেশের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৫ অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ৩০ কোটি জোড়া জুতার চাহিদা রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী শীর্ষস্থানীয় বাজার গবেষণা ও কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইএমএআরসি গ্রুপের তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্নিকার্স বাজারের আকার ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৬ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে বার্ষিক গড় ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ২০৩৪ সালে এ বাজারের আকার ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইএমএআরসি গ্রুপ একটি শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনা পরামর্শক ও বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
বাড়ছে দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের উপস্থিতি
দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জুতার বাজারের মাত্র প্রায় ৪০ শতাংশ ব্র্যান্ডেড। বাকি ৬০ শতাংশই নন-ব্র্যান্ডেড এবং চীন থেকে আমদানি করা পণ্য। দেশি ব্রান্ডের মধ্যে অ্যাপেক্স, বাটা, ওয়াকার, বে, জেনিস, ওরিয়ন অন্যতম।
এছাড়া দেশি ব্র্যান্ডের পাশাপাশি বাজারে কিছু উচ্চমানের ও প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের কেডস ও স্নিকার্সও রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পুমা, নাইকি, স্কেচার্স, অ্যাসিক্স ও অ্যাডিডাস। এসব ব্র্যান্ডের কিছু পণ্য স্থানীয় ব্র্যান্ডের শোরুম যেমন বাটা ও অ্যাপেক্সে বিক্রি হয়। স্কেচার্স, পুমা ও নাইকির রাজধানীতে নিজস্ব ব্র্যান্ড আউটলেট রয়েছে।
দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর জুতার মূল্য সাধারণত প্রায় ১৫শ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫ হাজারের বেশিও হয়।
নাইকি, অ্যাডিডাস ও পুমার মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের জুতার দাম সাধারণত প্রায় ৯ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ২০ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।
দেশে বিক্রি হওয়া কেডস ও স্নিকার্সের বড় একটি অংশই মূলত চীন থেকে আমদানি করা হয়। এ ধরনের কেডস কিংবা স্নিকার্সের মূল্য ১ হাজার টাকা থেকে শুরু এবং মানভেদে তিন-চার হাজার টাকার বেশিও হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এমন কিছু দোকান গড়ে উঠেছে, যেখানে শুধু কেডস ও স্নিকার্স বিক্রি করা হয়।
নারীদের কেডস-স্নিকার্সের চাহিদা বেড়েছে অনেক
মিরপুর-২ এলাকার এক জুতা বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগে আমি বিভিন্ন ধরনের জুতা বিক্রি করতাম। বর্তমানে শুধু স্নিকার্স ও কেডস বিক্রি করছি। কারণ এই পণ্যের বাজারে ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি।’
তিনি আরও জানান, মূলত চীন থেকে আমদানি করা স্নিকার্স ও কেডস বিক্রি করেন। কারণ, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্নিকার্স ও কেডসের প্রতি আগ্রহ অনেক বেড়েছে। উচ্চ চাহিদা ও পরিবর্তিত ফ্যাশন প্রবণতার কারণে বর্তমানে এ পণ্যগুলোর বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
কেন বাড়ছে ব্যবহার
বিশ্বজুড়ে যে পরিবর্তিত ফুটওয়্যার ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে, তার ঢেউ এখন বাংলাদেশেও স্পষ্ট। মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন, বাড়তি চলাফেরা, ফ্যাশন সচেতনতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং মানুষের বাড়তে থাকা ক্রয়ক্ষমতা- সবকিছু মিলিয়ে কেডসের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
একসময় মানুষ একটি জুতা দিয়েই সব প্রয়োজন মেটাতে চাইতো। এখন সেই ধারণা বদলে গেছে। পোশাকের মতো জুতার ক্ষেত্রেও এসেছে বৈচিত্র্য। অফিস, ভ্রমণ, আড্ডা, শপিং কিংবা দৈনন্দিন চলাচল- প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য মানুষ আলাদা ধরনের জুতা বেছে নিচ্ছে।
ফুটওয়্যার খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেডসের জনপ্রিয়তা শুধু একটি ফ্যাশন পরিবর্তন নয়, এটি বাংলাদেশের ভোক্তা আচরণের পরিবর্তনেরও প্রতিচ্ছবি। আরামদায়ক, হালকা, সহজে ব্যবহারযোগ্য এবং আধুনিক ডিজাইনের কারণে কেডস এখন আর নির্দিষ্ট কোনো বয়স বা শ্রেণির বা নারী-পুরুষের পণ্য নয়, বরং এটি হয়ে উঠছে সর্বজনীন জুতার নতুন প্রতীক।
বর্তমানে ঐতিহ্যগত লেদারের পরিবর্তে সিনথেটিক লেদারের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে জুতার ডিজাইন, রং, আকার, ধরন- সব ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য এসেছে। একই সঙ্গে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ার কারণে জুতার ব্যবহারও বেড়েছে। এ কারণেই পুরো শিল্পটি প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে।-প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ওয়াকার ফুটওয়্যার। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘জুতা শিল্প বিশ্বজুড়েই বড় হচ্ছে। বর্তমানে ঐতিহ্যগত লেদারের পরিবর্তে সিনথেটিক লেদারের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে জুতার ডিজাইন, রং, আকার, ধরন- সব ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য এসেছে। একই সঙ্গে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ার কারণে জুতার ব্যবহারও বেড়েছে। এ কারণেই পুরো শিল্পটি প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে।’

ওয়াকার শোরুমে বাহারি ডিজাইনের কেডস-স্নিকার্স
আগে মূলত তরুণ প্রজন্ম এ ধরনের কেডস ব্যবহার করতো জানিয়ে তিনি বলেন, এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। বর্তমানে নারী-পুরুষ, তরুণ, বয়স্ক- সব শ্রেণির মানুষই এ ধরনের জুতা ব্যবহার করছেন। এর প্রধান কারণ হলো, এগুলো প্রচলিত জুতার তুলনায় অনেক বেশি আরামদায়ক, হালকা ও চলাচলের জন্য সুবিধাজনক।’
কেডস ও স্নিকার্স সারা বছরই বিক্রি হওয়া পণ্য। তবে অন্য মৌসুমের তুলনায় শীতকালে বিক্রি কিছুটা বাড়ে। এরপরও বছরের পুরো সময়জুড়েই এর বাজার চাঙা থাকে, বলে জানান মেহেদী হাসান। তিনি মতিঝিলে মেটলাইফের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতে কেডস ও অন্য জুতা বিক্রি করেন।
তিনি জানান, নিম্ন, মধ্য ও উচ্চ- সব আয়ের মানুষের কাছেই কেডসের চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন তিনি অন্তত ১০ থেকে ১৫ জোড়া কেডস বিক্রি করেন।
একই এলাকার আরেক হকার জানান, তিনি প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জোড়া কেডস বিক্রি করেন। সাধারণত প্রতি জোড়া কেডসের দাম ১ হাজার থেকে ১৫শ টাকার মধ্যে। তবে উন্নত মানের কিছু কেডসের দাম দুই হাজার টাকা পর্যন্ত হয়।
তাদের দাবি, তারা যেসব কেডস বিক্রি করেন, সেগুলো মূলত রপ্তানিমুখী কারখানার ও কিছুটা ত্রুটিযুক্ত অথবা উদ্বৃত্ত (লেফটওভার) পণ্য।
ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা ও ফ্যাশন-সচেতনতা
অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের জেনারেল ম্যানেজার মো. নাসরুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগে মানুষ উপলক্ষভেদে আলাদা জুতা কিনতো না। যেমন জামাকাপড় মানুষ ঈদ, বিয়ে, অফিস, বাসা- বিভিন্ন উপলক্ষে আলাদা কেনেন। আগে জুতার ক্ষেত্রে এ ধারণা ছিল না। একটি স্যান্ডেল বা একটি জুতা দিয়েই সব কাজ চলতো।’
আগে যেখানে বছরে একজন একটি জুতা কিনতেন, এখন ন্যূনতম দুই থেকে তিন জোড়া কিনছেন। এটি একটি বড় কারণ। অন্যদিকে, ব্র্যান্ডেড জুতা যারা কেনেন, তাদের হাতে কিছু না কিছু ক্রয়ক্ষমতা সব সময় ছিল। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বেড়েছে।-অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের জেনারেল ম্যানেজার মো. নাসরুল্লাহ
‘কিন্তু গত পাঁচ-সাত বছরে এই ধারণা অনেক বদলে গেছে। ইন্টারনেট, গ্লোবালাইজেশন- যে কারণেই হোক, এখন রিকশাচালক পর্যায়ের মানুষও উপলক্ষ অনুযায়ী জুতা কেনার বিষয়টি বোঝেন,’ বলেন নাসরুল্লাহ।

ফুটপাতে সারা বছরই বিক্রি হচ্ছে কেডস-স্নিকার্স
এখন মানুষ বছরে গড়ে প্রায় তিন জোড়া জুতা কিনছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে যেখানে বছরে একজন একটি জুতা কিনতেন, এখন ন্যূনতম দুই থেকে তিন জোড়া কিনছেন। এটি একটি বড় কারণ। অন্যদিকে, ব্র্যান্ডেড জুতা যারা কেনেন, তাদের হাতে কিছু না কিছু ক্রয়ক্ষমতা সব সময় ছিল। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বেড়েছে।’
নাসরুল্লাহ জানান, সিনথেটিক বা নন-লেদার ফুটওয়্যারের অংশ আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ শতাংশের বেশি হবে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫৩১ মিলিয়ন ডলারের নন-লেদার জুতা রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের ৫২৩ মিলিয়ন ডলার ছিল। নন-লেদার জুতার বড় একটি অংশ কেডস ও স্নিকার্স।
জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিনিধিরা জুতা শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে দেশীয়ভাবে কাঁচামাল সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে, যা আমদানিনির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে।