মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা সরাসরি যুক্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে নজিরবিহীন বৃদ্ধি লক্ষ করা গেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল) দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ দশমিক ৬৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। শুধু চলতি মাসেই তেলের দাম ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক ‘গাল্ফ ওয়ার’ বা উপসাগরীয় যুদ্ধের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেনের হুতিরা ইসরায়েলে তাদের প্রথম হামলা চালিয়েছে, ফলে তেলের দামে এই উল্লম্ফন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে।
সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ০৯ ডলার বা ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ১১৫ দশমিক ৬৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ২ দশমিক ৯২ ডলার বা ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ৫৬ ডলারে পৌঁছেছে। মূলত ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দামে এই প্রভাব পড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। শনিবার (২৮ মার্চ) ইরানপন্থি হুতিরা ইসরায়েলে প্রথম হামলা চালানোর পর লোহিত সাগর ও আরব উপদ্বীপের জাহাজ চলাচল পথ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জেপি মরগানের বিশ্লেষকরা এক নোটে জানিয়েছেন, সংঘাত এখন আর শুধু পারস্য উপসাগর বা হরমুজ প্রণালিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদাব পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে—যা অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ।
ডেটা অ্যানালিটিক্স ফার্ম ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে প্রতিদিন ৪ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইয়ানবু বন্দরের রপ্তানি ব্যাহত হলে সৌদি আরবকে মিসরের সুয়েজ-মেডিটেরিনিয়ান পাইপলাইনের ওপর নির্ভর করতে হবে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির আলোচনার প্রচেষ্টার মধ্যেই গত সপ্তাহে ওমানের সালালাহ টার্মিনালে হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার কথা বললেও আসলে স্থলপথে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরান জানিয়েছে তারা যে কোনো স্থল অভিযানের কড়া জবাব দিতে প্রস্তুত। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির উপায় নিয়ে আলোচনা চলছে।