Image description

এশিয়ান কাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীতের সময় এক ভিন্ন দৃশ্য দেখা গেল ইরান দলের মধ্যে। প্রথম ম্যাচে যেখানে নীরব দাঁড়িয়ে ছিলেন খেলোয়াড়রা, সেখানে এবার সংগীতের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন তারা; একইসঙ্গে দিয়েছেন সামরিক স্যালুটও।

 

সিডনির ম্যাচে ইরানের খেলোয়াড়দের এমন আচরণ গ্যালারিতেও আলোচনার জন্ম দেয়। কিছু দর্শক আবার জাতীয় সংগীতের সময় তাদের স্যালুট ও গান গাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় দুয়োও দেন।

 

এর কয়েক দিন আগেই দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে ইরানি ফুটবলাররা জাতীয় সংগীত চলাকালে নীরব ছিলেন। তখন তাদের সেই অবস্থানকে অনেকে ব্যাখ্যা করেছিলেন ইরানের চলমান অস্থির পরিস্থিতির প্রতিফলন হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর দেশজুড়ে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার ছায়া পড়েছিল দলের ওপরও।

 

যদিও খেলোয়াড়দের আচরণে এই পরিবর্তনের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ইরান ইন্টারন্যাশনাল টিভির সাংবাদিক আলিরেজা মোহেব্বি দাবি করেছেন, খেলোয়াড়দের ওপর সংগীত গাওয়ার নির্দেশনা ছিল।

 

 

বিবিসির অংশীদার সংবাদমাধ্যম এবিসিকে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই পরিষ্কার যে ইরানের সরকার এবং দলের সঙ্গে থাকা নিরাপত্তা কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের জাতীয় সংগীত গাওয়া ও স্যালুট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’

 

মাঠের বাইরে ইরানের পরিস্থিতিও দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর দেশটিতে এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

 

এই পরিস্থিতির মধ্যেই দল নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন কোচ মারজিয়ে জাফারি। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘কেউ যুদ্ধ চায় না, যা ঘটছে তা কেউই পছন্দ করছে না।’

 

তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি ফুটবল খেলতে।’

 

মাঠে অবশ্য কঠিন সময়ই কাটছে ইরানের। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-০ গোলে হারায় টুর্নামেন্টে তাদের অবস্থান এখন নাজুক। নকআউট পর্বে যেতে হলে আগামী রোববার ফিলিপাইনের বিপক্ষে ম্যাচে জিততেই হবে তাদের।

 

জাতীয় সংগীত নিয়ে ইরানি ফুটবলারদের এই ভিন্ন আচরণ নতুন কিছু নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা সংগীতের সময় নীরব ছিলেন, পরে ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচে আবার গেয়েছিলেন।

 

সেই সময় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ চলছিল মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে, যিনি পুলিশের হেফাজতে মারা যান।

 

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্ট স্টেডিয়ামের বাইরে ম্যাচের আগে বেশ কিছু ইরানি–অস্ট্রেলিয়ান সমর্থক জড়ো হন। তাদের হাতে দেখা যায় অস্ট্রেলিয়া, ইসরায়েল এবং ইরানের বিপ্লব-পূর্ব পতাকা যা পুরো ঘটনাকে আরও রাজনৈতিক মাত্রা দেয়।