২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র পাঁচ মাস বাকি। তার আগেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আবার ইউরোপের ফুটবলে ফেরার কথা ভাবছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবল অঙ্গনে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় ক্লাব গালাতাসারাই।
তুরস্কের খ্যাতনামা ফুটবল বিশ্লেষক লেভেন্ট তুজেমান দাবি করেছেন, মেসি ও গালাতাসারাইয়ের মধ্যে এরই মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী চার মাসের একটি স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে তুর্কি ক্লাবটির হয়ে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সম্ভাব্য এই চুক্তিতে মেসির মোট ম্যাচ সংখ্যা হতে পারে ১২টি।
এই ১২টি ম্যাচই হবে ইস্তাম্বুলে, গালাতাসারাইয়ের ঘরের মাঠ র্যামস পার্কে। মেসির পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট শর্তও নাকি জানানো হয়েছে—তিনি কেবল হোম ম্যাচেই খেলবেন, কোনো অ্যাওয়ে ম্যাচে অংশ নেবেন না। শর্তটি অস্বাভাবিক মনে হলেও, তুরস্কে তার উপস্থিতিতে যে বিপুল জনসমাগম ও উন্মাদনা তৈরি হবে, সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
গালাতাসারাইয়ের কায়সারিসপোরের বিপক্ষে ৪–০ গোলের বড় জয়ের পর অ্যা স্পোরের একটি লাইভ অনুষ্ঠানে এই বিস্ফোরক তথ্য দেন তুজেমান। সাহসী মন্তব্যের জন্য পরিচিত এই বিশ্লেষক জানান, ক্লাব ম্যানেজমেন্টও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তার ভাষায়, গালাতাসারাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে লিওনেল মেসিকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছিল।
তুজেমান বলেন, মেসির বক্তব্য অনুযায়ী, ‘আমেরিকান লিগে খেলার গতি তার জন্য খুব ভারী হয়ে যাচ্ছে এবং তিনি চোট নিয়ে বিশ্বকাপে যেতে চান না।’ এই কারণেই তিনি ইউরোপের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরার কথা ভাবছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সৌদি প্রো লিগ থেকেও প্রস্তাব পেয়েছিলেন মেসি। তবে সেটি নাকচ করেছেন তিনি। তুজেমানের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘আল-হিলাল প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। মেসি এলে এক মিলিয়ন মানুষ বিমানবন্দরে যাবে।’
তুরস্কে আসার ক্ষেত্রেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন মেসি। তুজেমানের ভাষায়, ‘মেসি বলেছেন, তিনি ইস্তাম্বুলে খেলবেন—এই শর্তেই আসবেন। তিনি ১২টি ম্যাচ খেলবেন, তবে কোনো অ্যাওয়ে ম্যাচে যাবেন না।’
এদিকে লিওনেল মেসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার ঘোষণা দেননি। তবে ফুটবল বিশ্বে প্রত্যাশা, তিনি প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির ডাকে সাড়া দেবেন এবং টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবেই মাঠে নামবেন। সেই ক্ষেত্রে বিশ্বকাপ চলাকালীন তার আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাবে।