সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকটাই জৌলুশ হারিয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। তবে ২০১৯ সালে অভিষেক হওয়ার পর থেকে অনেক পাকিস্তানি সতীর্থের মতোই নিয়মিত ও বিশ্বস্ত বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে বিপিএলে অংশ নিয়ে যাচ্ছেন পাকিস্তানের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নওয়াজ। মূলত, বাংলাদেশের কোচ ও অধিনায়কদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচিতি ও আস্থাই প্রতি মৌসুমে বিপিএলে ফিরিয়ে আনছে এই তারকাকে। ইএসপিএনক্রিকইনফোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
আগের মৌসুমগুলোতে নওয়াজ খুলনা টাইগার্স, রংপুর রাইডার্স, রাজশাহী রয়্যালস ও সিলেট সিক্সার্সের হয়ে খেলেছেন। চলতি মৌসুমে তিনি যোগ দিয়েছেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সে।
বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন নওয়াজ। চলতি বছরে পাকিস্তানের হয়ে ২৬ ম্যাচে ৩৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। যেখানে গড় ১৩.৬১, ইকোনমি ৬.৫৬। বিতর্কে জর্জরিত বিপিএলে চারটি নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি যুক্ত হওয়ায় চাইলে তিনি সহজে এই আসর এড়িয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু একটি নাম শুনেই টানা ষষ্ঠবারের মতো বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন নওয়াজ; তিনি হান্নান সরকার।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের প্রধান কোচ হান্নান সরকার বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম সফল কোচ হিসেবে পরিচিত। দেশের অনেক তরুণ ক্রিকেটারকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন তিনি। এছাড়া গত মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনী লিমিটেডকে শিরোপা জেতান হান্নান।
নওয়াজ বলেন, ‘প্রথমবার বিপিএলে খেলতে গিয়ে রাজশাহী দলে আমি খুব ইতিবাচক অনুভূতি পেয়েছিলাম। হান্নান ভাই খুব শান্ত ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। তিনি সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার, ক্রিকেট সম্পর্কে তার জ্ঞান অনেক। আমার ম্যানেজার যখন বলল রাজশাহী থেকে প্রস্তাব এসেছে এবং কোচ হান্নান ভাই, তখন আমি খুব ভালো অনুভব করি। অতীতে বিপিএলে কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো অনাকাঙ্ক্ষিত। কিন্তু যখন জানলাম হান্নান ভাই ম্যানেজমেন্টে আছেন, তখন আমি খুব খুশি হয়েছিলাম।’
অতীতের কিছু কঠিন অভিজ্ঞতার বিস্তারিত বলতে না চাইলেও নওয়াজ বলেন, ‘বিপিএলে এমন অনেক কিছু হয়েছে, যা হওয়া উচিত ছিল না। বিপিএল ক্রিকেটের বড় একটি ব্র্যান্ড, বিশ্বের নানা দেশের আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়রা এখানে খেলতে আসে।’
রাজশাহী দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বও পছন্দ করেন নওয়াজ। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের তিনি যেভাবে সামলান এবং সমালোচনার জবাব পারফরম্যান্স দিয়ে দেন, সেটির প্রশংসা করেন এই পাকিস্তানি অলরাউন্ডার।
নওয়াজের ভাষ্য, ‘আপনি দেখেছেন, প্রথম ম্যাচেই শান্ত সেঞ্চুরি করেছে। মাঠের পারফরম্যান্সই সব কথা বলে। সে টি–টোয়েন্টি ব্যাটার কি না, এ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু তার ব্যাটিং প্রমাণ করে সে কী করতে পারে।’
এছাড়া সুযোগ পেলেই মুশফিকুর রহিমের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার চেষ্টা করেন নওয়াজ. ‘মুশফিক ভাইয়ের অভিজ্ঞতা অসাধারণ। তিনি ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেছেন। টানা ২০ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা এমনিতেই সম্ভব নয়; তার ভেতরে বিশেষ কিছু আছে। বিশেষ করে তিনি যখন কিপিং করেন, তখন আমি তার সঙ্গে কথা বলি। পিচের আচরণ কেমন, কোন লেন্থ বা কোন গতিতে বল করা ভালো, এসব বিষয়ে তার মতামত নিই। তার অভিজ্ঞতা থেকে যা পাই, সেটা মাথায় রেখে নিজের পরিকল্পনা করি।’