এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ বাছাইপর্বে দারুণ ছন্দে শুরু করলেও শেষ বাধায় থেমে গেল বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা। চংকিনে স্বাগতিক চীনের বিপক্ষে জিতলেই এশিয়া কাপের মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল লাল-সবুজদের। কিন্তু ডিফেন্সে ধারাবাহিক ভুল আর আক্রমণে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সে বাংলাদেশ হেরে গেল বড় ব্যবধানে—৪-০ গোলে। ফলে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে আগামী বছরের সৌদি আরব আসরের টিকিট তুলে নিল চীন।
টুর্নামেন্টে টানা চার ম্যাচ জয় করে আত্মবিশ্বাসী ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু চীনের বিপক্ষে ভাগ্য সঙ্গে থাকেনি। রক্ষণভাগ বারবার ভেঙে পড়েছে, ভুলের পর ভুলেই গোল হজম করতে হয়েছে। শক্তিশালী স্বাগতিক দলের বিপক্ষে ফরোয়ার্ডরাও সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেননি।
চংকিন ইয়ংচুয়ান স্পোর্টস সেন্টারে শুরু থেকেই চীনের গতি, দক্ষতা আর শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খায় বাংলাদেশ। ৯ মিনিটেই পিছিয়ে যায় দল। মধ্যমাঠ থেকে লং পাসে তৈরি হওয়া আক্রমণে ডানদিকের ক্রস থেকে সুয়েয়ি ওইহাও সহজ ট্যাপে বল জালে পাঠান।
৩৯ মিনিটে আরেকটি অদ্ভুত ভুল—কামাল মৃধার ব্যাকপাস কাড়িয়ে নিয়ে সুয়েয়ি তালগোল পাকানো রক্ষণ ও এগিয়ে আসা গোলকিপারকে কাটিয়ে দ্বিতীয় গোল করেন।
বিরতির পরও পরিস্থিতি পাল্টায়নি। ৫২ মিনিটে ডান দিক থেকে ভাসানো বলে চমৎকার হেডে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সুয়েয়ি। শেষ দিকে ৮৯ মিনিটে আরও একটি গোল খেয়ে বড় হারে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের চার ম্যাচ জয়ে জ্বলেছিল মূল পর্বে ওঠার আশার আলো। কিন্তু চীনের বিরুদ্ধে ম্যাচ আবার প্রমাণ করল—দক্ষিণ এশিয়া থেকে এশিয়ার বড় মঞ্চে পা রাখতে আরও বড় লাফ দরকার। দুই দশক পর বয়সভিত্তিক পর্যায়ে মূল পর্বে ফেরার স্বপ্ন জাগলেও, শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হলো না।