Image description

পাকিস্তান-ভারত রাজনৈতিক বৈরিতার উত্তাপ এখন আর সীমান্ত কিংবা কূটনৈতিক সম্পর্কেই আটকে নেই। তার আঁচ পড়ছে খেলার মাঠেও। দুই দেশের চিরায়ত রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্রীড়াঙ্গন। হারিয়ে যাচ্ছে খেলাধুলার সহজাত সৌন্দর্য, সৌহার্দ্য আর স্পোর্টসম্যানশিপের চেতনা। বিশেষ করে ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় ক্রিকেটারদের পাকিস্তানি প্রতিপক্ষের সঙ্গে ম্যাচের আগে ও পরে করমর্দন না করার ঘটনা তৈরি করেছে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি অন্তত ফুটবলের মাঠে দেখতে চান না ক্রীড়াপ্রেমীরা। বরং সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের আগে ও পরে দুই দলের খেলোয়াড়েরা পারস্পরিক সৌজন্য ও সম্প্রীতির পরিচয় দেবেন, এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

সেই প্রত্যাশার পালে হাওয়া দিয়েছেন দুই দলের অধিনায়ক ও কোচ। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ মুখোমুখি হওয়ার আগে করমর্দন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভারত ও পাকিস্তানের ফুটবলাররা। শুধু হ্যান্ডশেক নয়, প্রয়োজনে প্রতিপক্ষকে আলিঙ্গন করতেও আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধান কোচ নওশাদ মুসা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ম্যাচ শুরুর আগে কিংবা শেষ বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়েরা পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করবেন কি না। জার্সি বিনিময়ের বিষয়টিও উঠে আসে প্রশ্নে।

ভারতীয় অধিনায়ক নাথান রদ্রিগেজের উত্তর ছিল স্পষ্ট। এ নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই তার। রদ্রিগেজ বলেন, ‘অবশ্যই করব। এটা তেমন বড় কোনো বিষয় নয়। হ্যাঁ, আমরা হ্যান্ডশেক করব।’

ভারতের কোচ নওশাদ মুসা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন। প্রতিপক্ষ পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে শুধু করমর্দন নয়, প্রয়োজনে আলিঙ্গন করার কথাও বলেছেন তিনি। মুসার ভাষায়, ‘প্রয়োজন হলে আমরা নিজেরাই এগিয়ে গিয়ে তাদের জড়িয়ে ধরতে চাইব।’

পাকিস্তানের অধিনায়ক আলমগীর গাজীর বক্তব্যেও একই সুর। এ প্রসঙ্গে তিনি ক্রিকেটের সঙ্গে ফুটবলের পার্থক্য তুলে ধরেন। গাজী বলেন, ‘আমাদের অবস্থানও একই। এটা ক্রিকেট নয়, ফুটবল। আর এ কারণেই ফুটবলকে সুন্দর খেলা বলা হয়। আমরাও একইভাবে করমর্দন করব।’

জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ দুপুর সাড়ে তিনটায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে এবারের সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান ক্রীড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় করমর্দনের বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ক্রিকেট মাঠে দুই দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে হ্যান্ডশেক না করার ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব কীভাবে খেলাধুলার স্বাভাবিক সৌজন্যবোধকে ছাপিয়ে যেতে পারে, সেই প্রশ্নও উঠেছে বারবার।

অথচ মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর মাঠের বাইরের সৌহার্দ্য কখনো পরস্পরের বিরোধী নয়। ফুটবলের সৌন্দর্যও এখানেই। প্রতিপক্ষকে হারানোর লড়াই থাকবে, থাকবে উত্তেজনা ও আবেগ। কিন্তু খেলা শেষে প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান জানানোও ক্রীড়াসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এবার তাই সবার নজর সাফের মাঠে। ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ে উত্তেজনা থাকবে, থাকবে জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন সৌজন্যকে গ্রাস না করে। ক্রিকেটের মাঠে তৈরি হওয়া নেতিবাচক দৃষ্টান্তের বিপরীতে ফুটবল যদি সম্প্রীতির বার্তা দিতে পারে, সেটিই হবে খেলাটির প্রকৃত সৌন্দর্য। দুই দলের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।