লিওনেল মেসিকে ছাড়াই প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। নভেম্বরের ফিফা উইন্ডোয় উরুগুয়ে ও কোস্টারিকার বিপক্ষে বছরের শেষ দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই দুই ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ডিফেন্ডার অ্যারন আনসেলমিনো। পাশাপাশি দলে ফিরেছেন গনসালো মন্তিয়েল ও মারিয়ানো ত্রোইলো।
স্কালোনির ঘোষিত দলে বেশির ভাগ নামই প্রত্যাশিত। তবে চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অন্তর্ভুক্তি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। চোয়ালে গুরুতর চোট পাওয়ার পর অস্ত্রোপচার করিয়েছেন তিনি। এখনো চেলসির হয়ে মাঠে নামতে পারেননি এই গোলরক্ষক। তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন স্কালোনি। মার্তিনেজের পাশাপাশি দলে রেখেছেন আরও তিন গোলরক্ষক- জেরোনিমো রুলি, হুয়ান মুসো ও সান্তিয়াগো বেলত্রান।
দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন ২১ বছর বয়সী ডিফেন্ডার অ্যারোন আনসেলমিনো। বোকা জুনিয়র্সের যুব দল থেকে উঠে আসা এই সেন্টারব্যাককে আর্জেন্টাইন ফুটবলের অন্যতম প্রতিভাবান তরুণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বোকা জুনিয়র্সের হয়ে মাত্র ১৮টি ম্যাচ খেলার পর ১ কোটি ৮০ লাখ ডলারে তাঁকে কিনে নেয় চেলসি। এর সঙ্গে পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাসের ব্যবস্থাও ছিল।
তবে চোটের কারণে নিজের সম্ভাবনার পুরোটা এখনো দেখাতে পারেননি আনসেলমিনো। তাঁকে ধারে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে পাঠায় চেলসি। জার্মান ক্লাবটির হয়ে কিছু ভালো পারফরম্যান্সও করেন তিনি। এরপর আরেক দফা ধারে ফ্রান্সের ক্লাব রেসিং স্ট্রাসবুরে খেলেন। সেখান থেকে চেলসিতে ফেরার পর মালয়েশিয়ার ক্লাব জোহরের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে চোট পান এই ডিফেন্ডার। এরপর থেকে নতুন কোচ জাবি আলোনসোর অধীনে এখনো মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি।
দলে ফিরেছেন গনজালো মন্তিয়েলও। আর মারিয়ানো ত্রোইলোর জন্য এটি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে দ্বিতীয়বারের মতো ডাক। এর আগে ২০১৫ সালের মে মাসে চিলি ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের জন্য স্কালোনি তাঁকে দলে ডেকেছিলেন। তবে সেবার কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি তিনি।
মেসিকে ছাড়া স্কালোনির এই প্রথম স্কোয়াড ঘোষণা এবং আনসেলমিনোর অন্তর্ভুক্তি- দুই বিষয়ই নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনার দল নিয়ে আগ্রহ বাড়িয়েছে। উরুগুয়ে ও কোস্টারিকার বিপক্ষে বছরের শেষ দুই ম্যাচে নতুন এই ডিফেন্ডার সুযোগ পান কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আর্জেন্টিনা ফুটবল দল
গোলরক্ষক
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (চেলসি), হেরোনিমো রুলি (ম্যানচেস্টার সিটি), হুয়ান মুসো (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), সান্তিয়াগো বেলত্রান (রিভার প্লেট)।
ডিফেন্ডার
গনজালো মন্তিয়েল (রিভার প্লেট), অগাস্তিন গিয়াই (পালমেইরাস), অ্যারন আনসেলমিনো (চেলসি), মারিয়ানো ত্রোইলো (পার্মা), লিওনার্দো বালের্দি (রোমা), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), ফাকুন্দো মেদিনা (বায়ার লেভারকুসেন), নিকোলাস তালিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ), রোমান ভেগা (জেনিত), এজেকুয়েল ফার্নান্দেজ (বায়ার লেভারকুসেন)।
মিডফিল্ডার
ম্যাক্সিমো পেরোনে (কোমো ১৯০৭), এজেকুয়েল পালাসিওস (ইপসউইচ টাউন), ভ্যালেন্তিন বারকো (চেলসি), অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), এনজো ফার্নান্দেজ (ম্যানচেস্টার সিটি), নিকোলাস পাজ (কোমো ১৯০৭), মাতিয়াস সুলে (রোমা), ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো (ফিওরেন্তিনা), জিউলিয়ানো সিমিওনে (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), থিয়াগো আলমাদা (রিভার প্লেট), হুয়ান হোসে লোপেজ (পালমেইরাস)।
ফরোয়ার্ড
জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি (বেনফিকা), সান্তিয়াগো কাস্ত্রো (রোমা), হুলিয়ান আলভারেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)।