Image description

ফুটবল মাঠে বলের দখল নিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব তেনেরিফের স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেল। ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলার মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ক্লাব তেনেরিফ।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ম্যাচের যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক হেসুস ওওনোর সঙ্গে সংঘর্ষে বুকে গুরুতর আঘাত পান দে মিগেল। তখন দুই দলের স্কোর ছিল ২-২।

দূর থেকে আসা বল ক্লিয়ার করতে গোলপোস্ট ছেড়ে সামনে এগিয়ে আসেন আন্দোরার গোলরক্ষক ওওনো। এ সময় তাঁর হাঁটু দে মিগেলের বুকে আঘাত করে। সংঘর্ষের পরপরই মাঠে লুটিয়ে পড়েন তেনেরিফের এই স্ট্রাইকার। তাঁর নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেলে দুই দলের খেলোয়াড়েরা দ্রুত চিকিৎসাকর্মীদের মাঠে ডাকেন।

মাঠেই পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে দে মিগেলকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ সময় কয়েকজন সতীর্থকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে নুয়েস্ত্রা সেনিওরা দে লা কান্দেলারিয়া বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় দে মিগেলের। জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হন। প্রথমদিকে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও পরে অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার সকালে এক আবেগঘন বিবৃতিতে দে মিগেলের মৃত্যুর খবর জানায় তেনেরিফ। ক্লাবটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গভীর শোক আর গলায় কান্না নিয়ে, কিছুতেই বিশ্বাস করতে না পেরে আমরা জানাচ্ছি, আজ মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৮টায় হেসুস দে মিগেল আলামেদার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো শব্দ নেই। এই গভীর শোকের অনুভূতি লাঘব করার মতো কিছুই নেই।’

দে মিগেলের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ক্লাবটি আরও বলেছে, ‘আমরা তার শোকে বিধ্বস্ত পরিবারের পাশে আছি, তাঁর প্রিয়জনদের পাশে আছি এবং তেনেরিফের সব সমর্থকের পাশে আছি, যারা আজ এই নির্মম পরিণতিতে শোকাহত।’

এদিকে, এ দুর্ঘটনায় আন্দোরার গোলরক্ষক হেসুস ওওনোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। দে মিগেলের চিকিৎসার জন্য পরে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

ঘটনার পর স্প্যানিশ পুলিশ ও প্রসিকিউটররা অনিচ্ছাকৃত হত্যার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছেন। অন্যদিকে, দে মিগেলের মৃত্যুর ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন গোলরক্ষক ওওনো।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম আএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় কয়েকজন দর্শক ওওনোকে লক্ষ্য করে ‘খুনি, খুনি’ বলে স্লোগান দেন। ড্রেসিংরুমে তাঁকে কান্নাকাটি করতে ও প্রার্থনা করতেও দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং ও কটূক্তির শিকার হওয়ার পর নিজের ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি।

ওওনোর ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে আএস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তিনি। দে মিগেলের মৃত্যুতে গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন এই গোলরক্ষক। তাঁর মনে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না বলেও জানিয়েছে সূত্রগুলো।