Image description

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে জায়গা হয়নি গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের। এরপরই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী এই অলরাউন্ডার। প্রায় ১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি। তবে নিজের শহরের মাঠে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবার খেলার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আর পূরণ হচ্ছে না। এ কারণে দল থেকে বাদ পড়ার পরই তার অবসরের ঘোষণায় অভিমানের ছায়া দেখছেন অনেকে।

সোমবার (২ নভেম্বর) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। ঘোষিত দলে জায়গা হয়নি ম্যাক্সওয়েলের। এরপর ক্রিকেটবিষয়ক পডকাস্ট ‘দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড’-এ নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার সিদ্ধান্ত জানান তিনি।

তবে হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত নেননি ম্যাক্সওয়েল। চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ও পরে অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তিনি। সেসব আলোচনায় তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

ম্যাক্সওয়েল জানিয়েছেন, অবসর নেওয়ার জন্য তার ওপর কোনো চাপ ছিল না। বরং দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নিজের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন ম্যাক্সওয়েল। সেই ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ না পেলেও বল হাতে ৩ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি জিতেছিল ৯ উইকেটে।

অবসরের আগে ঘরের মাঠে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবার খেলার আশা ছিল এই অলরাউন্ডারের। আগামী ২১ নভেম্বর মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। নিজের শহরের সেই মাঠেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলেন ম্যাক্সওয়েল।

তবে নির্বাচকদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও বুঝতে পারছেন তিনি। ম্যাক্সওয়েলের মতে, ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে আগামী এক থেকে দুই বছরে অস্ট্রেলিয়ার দলে বড় পরিবর্তন আসবে। এ কারণে তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা দেওয়া জরুরি।

২০১২ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ম্যাক্সওয়েলের। পরের মাসেই টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় তার। ২০১৩ সালে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলেন এই অলরাউন্ডার।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে মোট ২৮৬ ম্যাচ খেলেছেন ম্যাক্সওয়েল। ব্যাট হাতে করেছেন ৭ হাজার ২২৬ রান। অফ স্পিনে নিয়েছেন ১৩৬ উইকেট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার সেঞ্চুরি ১০টি।

সীমিত ওভারের ক্রিকেটেই সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। ১৪৯ ওয়ানডেতে ৩ হাজার ৯৯০ রান করেছেন তিনি। এই সংস্করণে তার স্ট্রাইক রেট ১২৬ দশমিক ৭১। চারটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি নিয়েছেন ৭৭ উইকেট।

অন্যদিকে ১৩০ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২ হাজার ৮৯৭ রান করেছেন ম্যাক্সওয়েল। এই সংস্করণে তার স্ট্রাইক রেট ১৫৪ দশমিক ৪২। করেছেন পাঁচটি সেঞ্চুরি। ভারতের রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ড নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন তিনি।

টেস্ট ক্যারিয়ার অবশ্য খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি ম্যাক্সওয়েলের। সাত ম্যাচে ৩৩৯ রান করেছেন তিনি। ২০১৭ সালে ভারতের বিপক্ষে রাঁচিতে নিজের একমাত্র টেস্ট সেঞ্চুরি করেন এই অলরাউন্ডার।

ম্যাক্সওয়েলের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ২০১ রানের ইনিংস। মুম্বাইয়ে ২৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৯১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।

সেখান থেকে অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলে দলকে জেতান ম্যাক্সওয়েল। পেশির টানে ঠিকমতো দৌড়াতে পারছিলেন না তিনি। তবু ব্যাটিং চালিয়ে যান। ১২৮ বলে অপরাজিত ২০১ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন। সেই ইনিংস এখনো ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত।

একই বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাত্র ৪০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন ম্যাক্সওয়েল। সেটি ছিল ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনটি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন ম্যাক্সওয়েল। ২০১৫ ও ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী দলের পাশাপাশি ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পাশাপাশি প্রথম শ্রেণি ও ঘরোয়া লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। ভিক্টোরিয়ার সতীর্থদের নিজের সিদ্ধান্ত জানানোর সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

তবে ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক এখনই শেষ হচ্ছে না ম্যাক্সওয়েলের। বিগ ব্যাশ লিগে মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ থেকে সরে গিয়ে এখন নিজের শারীরিক প্রস্তুতির ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিতে চান এই অলরাউন্ডার।