স্বপ্নের মতো একটি সেশন কাটিয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা আফগানিস্তানকে প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে অলআউট করেছে টাইগাররা। দিনের শুরুতে মাত্র ২৯ রান যোগ করতেই ৬ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন হাসান মাহমুদ ও ইবাদত হোসেন। এই দুই পেসারের দাপটে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস থামে ২৪০ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
শনিবার (১১ অক্টোবর) তৃতীয় দিনের শুরুতেই নতুন বল হাতে নিয়ে আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে আঘাত হানেন বাংলাদেশের পেসাররা। দিনের প্রথম উইকেটটি এনে দেন ইবাদত হোসেন। তাঁর অফ স্টাম্পের চ্যানেলে পড়া বল ভেতরে ঢুকে ইকরাম আলীখিলের ব্যাট ও প্যাডের মাঝ দিয়ে সরাসরি স্টাম্পে আঘাত হানে। এটি ছিল ইবাদতের তৃতীয় উইকেট।
এরপর ইনিংসের ৮৩তম ওভারে বাংলাদেশের হয়ে ইতিহাস গড়েন হাসান মাহমুদ। ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে ইসমত আলম, কায়েস আহমেদ ও জিয়া-উর-রেহমানকে আউট করে টেস্টে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি গড়েন হাসান।
হাসানের হ্যাটট্রিকের প্রথম শিকার হন ইসমত আলম। ৮২.৩ ওভারে হাসানের ব্যাক অব আ লেংথের বল নিচু হয়ে ভেতরে ঢুকে গেলে তা সামলাতে পারেননি ইসমত। বল সরাসরি স্টাম্পে আঘাত হানলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।
পরের বলে কায়েস আহমেদের ব্যাটের কানায় লেগে বল স্লিপের দিকে যাচ্ছিল। তবে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ক্যাচ নেন উইকেটরক্ষক লিটন দাস। তাতে টানা দ্বিতীয় উইকেট পান হাসান।
হ্যাটট্রিক পূর্ণ করতে তৃতীয় বলে জিয়া-উর-রেহমানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন হাসান। আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল অফ স্টাম্পের ওপরের অংশে আঘাত করত।
টেস্ট ইতিহাসে এটি ৫০তম হ্যাটট্রিক। চলতি বছরে টেস্ট ক্রিকেটে এটিই প্রথম হ্যাটট্রিক। বাংলাদেশের হয়ে এর আগে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী। ২০০৩ সালে অলক কাপালি এবং ২০১৩ সালে সোহাগ গাজী এই কীর্তি গড়েন। তাঁদের পর বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করলেন হাসান। তবে পেসারদের মধ্যে তিনিই প্রথম।
হ্যাটট্রিকের পরও থামেননি হাসান। ইনিংসের ৮৭তম ওভারে ইয়ামিন আহমদজাইকে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করে টেস্টে নিজের চতুর্থ পাঁচ উইকেটের কীর্তি গড়েন তিনি। গত আগস্টে ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেট নেওয়া হাসান এবার আবুধাবিতেও পেলেন পাঁচ উইকেট। একই সঙ্গে টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। বাংলাদেশের দ্রুততম পেসার হিসেবে টেস্টে ৫০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন হাসান। এর আগে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে মাশরাফি বিন মুর্তজা ৭৮টি এবং তাসকিন আহমেদ ৫৯টি টেস্ট উইকেট নিয়েছেন।
তবে আফগানিস্তানের অধিনায়ক রহমত শাহ লড়াই চালিয়ে যান। অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি রহমতের চতুর্থ সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়। তবে সতীর্থদের একের পর এক বিদায়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ২৪০ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস।
এর আগে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২১১ রান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৩৪৬ রানের জবাবে তখনও ১৩৫ রানে পিছিয়ে ছিল তারা। দিন শেষে রহমত শাহ ৮৪ এবং ইকরাম আলীখিল ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাঁদের ১৯৪ বলে ৭২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি আফগানিস্তানকে লড়াইয়ে রেখেছিল। কিন্তু তৃতীয় দিনের শুরুতে বাংলাদেশের পেসারদের দাপটে সেই লড়াই বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৯২.৩ ওভারে ৩৪৬ রান করে অলআউট হয়েছিল। দলের হয়ে তানজিদ হাসান ৮৩, সাদমান ইসলাম ৬৭ ও নাঈম হাসান অপরাজিত ৩৫ রান করেন। আফগানিস্তানের হয়ে সেলিম ৮২ রানে ৪ উইকেট এবং ইয়ামিন আহমদজাই ৭৯ রানে ৩ উইকেট নেন।
আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস ২৪০ রানে শেষ হওয়ায় বাংলাদেশ ১০৬ রানের লিড পেয়েছে। হাসান ও ইবাদতের দুর্দান্ত বোলিংয়ে তৃতীয় দিনের শুরুতেই ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে টাইগাররা।